এলাকাবাসীর বিক্ষোভে অভয়নগর পাইলট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি>
এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে অভয়নগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার নিয়োগ ঠেকাতে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রায় দুই ঘন্টা বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের অভিযোগে এলাকাবাসী এক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়ে একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও কয়েকজন সদস্য গত ২৫ নভেম্বর গোপনে তাদের গঠন করা নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে যশোর শহরে অবস্থিত যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেন। অনিয়ম ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে তারা প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেন। এ ঘটনায় পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যাৎসাহী সদস্য গত বৃহস্পতিবার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত পরিচালনা পর্ষদসহ সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। শনিবার ওই নিয়োগ অনুমোদনের জন্য বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়। সংবাদ পেয়ে সকাল ১০ টার দিকে এলাকার দুই শতাধিক নারী-পুরুষ আদালতের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা নিয়োগ অনুমোদনে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত নারী-পুরুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠলে পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের সাথে তাদের হাতাহাতি হয়। এতে পরিচালনা পর্ষদের দুই জন সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। এরপর বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে অবস্থানরত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় দুই ঘন্টা পর দুপুর ১২ টার দিকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে এবং নিয়োগ স্থগিত করা হয়।
অভয়নগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যেৎসাহী সদস্য সবুর উদ্দীন মোল্যা বলেন, অনিয়ম ও অসচ্ছতার অভিযোগে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগের জন্য বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী গত ১ নভেম্বর যশোরের জেলা প্রশাসক এবং খুলনার মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা উপরিচালক বরাবর আবেদন করেন। এ দাবিতে ওইদিন বিদ্যালয় চত্ত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ। কিন্তু তাদের সে আবেদন কোনো কাজে আসেনি। তারা গোপনে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমি আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু সভাপতি ও কয়েকজন সদস্য নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনেশ কান্তি মল্লিক বলেন, ‘আজ (শনিবার) ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ছিল। সেখানে দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তবে সভাপতি সাহেব আহত হয়েছেন কি না জানি না। আত্মরক্ষার্থে আমরা অফিসের জালানা-দরজা বন্ধ করে রেখেছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের একটি আদেশ আমরা পেয়েছি’।
পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এমএম লুৎফর রহমান বলেন, ‘একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার রেজাল্টতো মানতে হবে। ম্যানেজিং কমিটির দুইজন সদস্যের ইঙ্গিতে বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। তারা আমাকে, আমার ছেলেকে এবং ভগ্নিপতিকে মেরেছে। আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করেছে। তারা কোর্টে কেস করেছে। কোর্ট অর্ডার দেয়নি। তারা মারামারি করেছে। পরে আমরা সভা স্থগিত করেছি।’
ভাটপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এএসআই আলিফ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সভাপতি অফিসে বসে আছেন। বাইরে অনেক লোক। কিছুটা উত্তেজনা। পরে নিয়োগ সভা স্থগিত করা হলে সবাই সেখান থেকে চলে যান’।