নড়াইলে আলাদা সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৭, ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল>
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়ায় আলাদা দু’টি সংঘর্ষে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৭জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৫টি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী জানান, কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হারুনার রশিদ এবং অপর আ.লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মিহির মোল্যার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে দুইপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে মিহির মোল্যার সমর্থক পারবিষ্ণুপুর গ্রামের সুজাত মোল্যা (৩০), আমিনুল (৪০), বনি (৩০), সনি (২৮), মিলন (৫০) ও তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৪০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজিব চৌধুরী (২০), হুমায়ুন শেখ (৩০), ওমর শেখ (৩০) ও আমির শেখ (৩৮) গুরুতর জখম হয়েছেন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ জানান, শর্টগান দিয়ে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিহির মোল্যা বলেন, হারুনার রশিদের সমর্থকেরা প্রথমে আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এ সময় ১২টি বাড়ি ভাঙচুরসহ লুটপাটও করে তারা। এ অভিযোগ অস্বীকার করে হারুনার রশিদ বলেন, মিহির মোল্যার লোকজনই আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।
এদিকে শনিবার সকাল ৭টার দিকে কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে দুইপক্ষের সংষর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় তিনটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, আমবাড়িয়া গ্রামের আলমগীর শেখ ও কাতেবর পক্ষের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে শনিবার সকালে আলমগীর শেখের লোকজন প্রতিপক্ষ কাতেবরের ভাই তকিবরের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় কাতেবর পক্ষের আবু সাঈদ, মনসুর ও হিমুর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহতদের নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণি মিয়া জানান, ঘটনাস্থলগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।