ঝিনাইদহে সাংসদ হত্যা চেষ্টা মামলার আসামির কাছ থেকে অস্ত্রগুলি উদ্ধার

কালীগঞ্জ প্রতিনিধি>
ঝিনাইদহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি আবু সাঈদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর রাতে আবু সাঈদের স্বীকারোক্তিতে পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল, ১ টি ম্যাগজিন ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরান আলম জানান, আবু সাঈদকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে আনার জন্য তিনি আদালতে আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। জেলগেটের জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে এমপি আনার হত্যা প্রচেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক মালিয়াট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি এমপি আনার হত্যা চেষ্টার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন। আজিজুর রহমান খান ভারতে পালিয়ে যাবার সময় পুলিশ পুটখালী বর্ডার থেকে ২ হাজার ভারতীয় রুপি ও একটি মোবাইল সিমসহ তাকে ২০ নভেম্বর গ্রেফতার করে। পরে তাকে এমপি আনার হত্যা প্রচেষ্টাকারীদের মধ্যে অন্যতম মুল পরিকল্পনাকারী ও সন্ত্রাসীদের অর্থ যোগানদাতা দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তার দেয়া তথ্য মতে, আসামি আবু সাঈদকে রিমান্ডে আনার জন্য পুনরায় আদালতে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ৩০ নভেম্বর সাঈদের আইনজীবী রিমান্ডের বিরুদ্ধে রিভিশন করলে আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আশরাফুজ্জামান তাদের দাবি খারিজ করে রিমান্ড বহাল রাখেন এবং ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী এ পুলিশ কর্মকর্তা। ৪ ডিসেম্বর দুপুরে আসামি আবু সাঈদকে রিমান্ডের জন্য কালীগঞ্জ থানায় আনা হয়। রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেখিয়ে দেয়া ও স্বীকারোক্তিতে পুলিশ কচাতলা বাজারস্থ সাঈদের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পিছন থেকে সোমবার ভোর রাতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যা প্রচেষ্টা চালায় ৮ দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় এমপি আনারের পিএস আব্দুর রউফ বাদি হয়ে ২ নভেম্বর কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৩ জনসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় প্রথমে গ্রেফতার করা হয় নিয়ামতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদকে। তার স্বীকারোক্তিতে গ্রেফতার করা হয় হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসের কর্মচারী (সার্ভেয়ার সহকারী) কওছার আলীকে। তাদের দেয়া জবানবন্দিতে গ্রেফতার করা হয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা আজিজুর রহমান খানকে। এরপর পুলিশ গ্রেফতার করে সাবেক আ.লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান অদুকে।