সব স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মোছার নির্দেশ

স্পন্দন ডেস্ক>
দেশের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম রয়েছে তা মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
এই আদেশ বাস্তবায়ন করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে।
এ বিষয়ে একটি আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।
এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী বছরের ১ মার্চ দিন রেখেছে আদালত।
২০ স্বাধীনতাবিরোধীর নামে স্থাপনা
১. মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমের (সাজা খাটার মধ্েযই কারাগারে মারা যান) নামে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তন।
২. যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের নামে হবিগঞ্জের মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় বাসস্ট্যান্ড ও কায়সারনগর এলাকা
৩. একাত্তরে পাবনার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইফুদ্দীন ইয়াহইয়াহ খান মজলিসের নামে সিরাজগঞ্জে ইয়াহইয়াহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
৪. রাজাকার ও শান্তি কমিটির নেতা আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার নামে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক রোড’
৫. মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রাজাকার ও শান্তি কমিটির স্থানীয় চেয়ারম্যান এনএম ইউসুফের নামে ‘ইউসুফ গনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লংলা ইউসুফ কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
৬. মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য মাহতাব উল্লাহর নামে ‘মাহতাব-সায়েরা হাই স্কুল’।
৭. গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাজাকার আব্দুল আজিজের নামে ডেলকা এমসি হাই স্কুল ও বেলকা রোডে রায়জীবন ইউনিয়ন কমপ্লেক্স।
৮. গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধর্ম পুরে স্বাধীনতাবিরোধী আব্দুল জব্বারের নামে আব্দুল জব্বার ডিগ্রি কলেজ।
৯. নোয়াখালীর চৌমুহনির রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য তরিকুল্লার নামে হাজী তরিকুল্লাহ রোড।
১০. ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় রাজাকার মিয়া মনসুর আলীর নামে মিয়া মনসুর আলী অ্যাকাডেমি।
১১. কুমিল্লার দরগাবাড়ী এলাকায় শান্তি কমিটির সদস্য রেজাউর রহমানের নামে ‘রেজাউর রহমান রোড’।
১২. নাটোরে রাজাকার আব্দুস সাত্তার খানের নামে মধু মিয়া রোড।
১৩. নাটোরে রাজাকার কোসের উদ্দিনের নামে কোসের উদ্দিন রোড।
১৪. পুরান ঢাকায় মুজাহিদ বাহিনীর মোহাম্মদ তামিমুল এহসানের নামে রাস্তা।
১৫. পুরান ঢাকায় মুজাহিদ বাহিনীর কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ ওরফে হাফেজ্জী হুজুরের নামে রাস্তা
১৬. নেত্রকোণার ফাইলাটি ইউনিয়নে রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের নামে হাজী আব্দুর রহমান হাই স্কুল।
১৭. মেহেরপুরের মুজিবনগর এলাকার রাজাকার মিয়া মনসুর আলীর নামে আনন্দবাস মিয়া মনসুর আলী অ্যাকাডেমি।
১৮. মেহেরপুর পৌর এলাকার রাজাকার ও শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান সবদার আলীর নামে রাস্তা ও মার্কেট।
১৯. নরসিংদীর মনোহরদীতে সরকারি শিশু পরিবারের নামফলকের যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের নাম।
২০. ঝিনাইদহের শৈলকূপায় রাজাকার ও শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান শফি আহমেদের নামে শফিপুর এলাকা ও শফিপুর পোস্ট অফিস।
স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে স্থাপনা, সড়ক, অবকাঠামোর নাম বদলের আর্জি জানিয়ে ২০১২ সালে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবীর। সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে খুলনার খান-এ সবুর রোড এবং কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহ আজিজুর রহমান মিলনায়তনের কথা বলা হয়।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৪ মে রুলসহ খান-এ সবুর ও শাহ আজিজুর রহমানের নাম ব্যবহার স্থগিতের অন্তর্বতীকালীন আদেশ দেয় হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের নামে স্থাপনা নিয়ে রুল জারি করা হয়।
আদালতের ওই নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে না জানিয়ে গতবছর ২৫ অগাস্ট আরেকটি আবেদন করেন মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবির। এরপর হাই কোর্ট ওই দুটি স্থাপনা থেকে দুই স্বাধীনতাবিরোধীর নাম প্রত্যাহার করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। ফিরিয়ে আনতে বলা হয় ‘যশোর রোড’ নামটি।
গতবছর নভেম্বরে হাই কোর্ট আরও একটি নির্দেশনা দেয়; বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে বলা হয়।
কিন্তু এরপর এক বছরেও সেই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০টি স্থাপনার নামের তালিকাসহ নতুন এই সম্পূরক আবেদন নিয়ে মঙ্গলবার আদালতে আসে আবেদনকারী পক্ষ। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ কে রাশিদুল হক।
আদেশের পর তিনি বলেন, “যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দণ্ড পেয়েছেন, তাদের নামেও স্থাপনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকার সেগুলো পরিবর্তন করেনি এবং পরিবর্তনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগও নেই। বাঙালি হিসেবে আমাদের জন্য এটা লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য।”