খুলনায় এহসান সোসাইটির নামে অর্থ আত্মসাত মামলায় মুফতি গোলাম রহমান কারাগারে

খুলনা ব্যুরো>
খুলনায় এহসান সোসাইটির নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দায়েরকৃত দু’টি মামলার প্রধান আসামি মুফতি গোলাম রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে খুলনা মহানগর হাকিম আমিরুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে গত ২৯ নভেম্বর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
পরিচালক মুফতি গোলাম রহমান এহসান সোসাইটির আওতাধীন প্রতিষ্ঠান এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেড’র কেন্দ্রীয় পরিচালক। তবে মামলার অপর আসামি এহসান সোসাইটি খুলনার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) রবিউল ইসলাম এখনও পলাতক রয়েছেন। অপর আসামি এহসান সোসাইটি খুলনার এরিয়া সমন্বয়কারী মুফতি রশীদ আহমাদ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এ তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ২৭ অক্টোবর গ্রাহকদের পক্ষে মাঠকর্মী মো. আবুজর বাদি হয়ে মামলা দু’টি দায়ের করেন।
বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রজব আলী জানান, অর্থ আত্মসাতের দু’টি মামলার প্রধান আসামি মুফতি গোলাম রহমান এতদিন পলাতক ছিলেন। বুধবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, এহসান সোসাইটি খুলনা মহানগরী ও দিঘলিয়া উপজেলা থেকে ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাত করেছে বলে মাঠ-কর্মীরা অভিযোগ করেন। এরমধ্যে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে এহসান সোসাইটিতে মাসিক সঞ্চয় বাবদ ৩ কোটি টাকা, খালিশপুর এলাকা থেকে দেড় কোটি টাকা এবং দিঘলিয়া উপজেলা থেকে ৪০ লাখসহ মোট ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া রিয়েল এস্টেটের (জমির ব্যবসা) নামে মাসিক মুনাফার নামে আরও সংগ্রহ করা হয় ৬ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মুফতি গোলাম রহমান এহসান সোসাইটির কেন্দ্রীয় শরীয়াহ কাউন্সিলের সহ-সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নগরীর বাগমারাস্থ মারকাযুল ফিকহিল ইসলামী মাদরাসার পরিচালক। জেলা সমন্বয়কারী মুফতি রশিদ আহমাদ নগরীর ডালমিল মোড়স্থ মক্কি মসজিদের ইমাম। তিনি এহসান সোসাইটির খুলনা জেলার সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।