যবিপ্রবিতে সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী> দেশে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব নেই, অভাব মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের

নিজস্ব প্রতিবেদক>
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, আমাদের যথেষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসএসসি উত্তীর্ণ সবাই যদি কলেজে ভর্তি হয় তারপরও সাত লাখ আসন ফাঁকা থাকবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব নেই। রয়েছে মানসম্মত শিক্ষা jessore-minister-pic-07-12প্রতিষ্ঠানের অভাব। তাই সবাই নামীদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিড় করে। এজন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীর অভাব হবে না। বুধবার দুপুরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত দুই দিনের আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এবার বছরের প্রথম দিন আমরা ৩৬ কোটি বই বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেবো। বিশ্বের কোন দেশে এমন নজির নেই। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। আমরা এখন উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশ। অথচ একসময় এদেশের মানুষ তিন বেলা পেট ভরে খেতে পেত না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যসহ সব সেক্টরে প্রভূত উন্নয়নের কারণে বর্তমান বিশ্ব এখন স্বীকার করে ২০২১ সালে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়াতে পারবো।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তবে এ জন্য আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় তাদের শিক্ষিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি তাদেরকে দেশপ্রেম ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
মন্ত্রী এ সময় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা স্তরে এ বিষয়টি এগিয়ে নিতে সেমিনারের বিশেষজ্ঞদের মতামত, পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেমিনারের অর্জিত জ্ঞান উচ্চ শিক্ষা প্রসারে প্রয়োগ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ চালু করেছে। এরপর আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এই বিভাগ চালু করেছে। সার্বিক দিক থেকে নতুন প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্থানে রয়েছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উচ্চ শিক্ষা মান উন্নয়ন প্রকল্প (হেকায়েপ) পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহন্ত বলেন, সরকার উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নে আন্তরিক। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তযোগাযোগ বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার কাজ আমরা করছি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে হলে নিবেদিত শিক্ষক প্রয়োজন। একটি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক থাকেন। কিন্তু ক্লাস থাকে অনেকগুলো। সেজন্য একাধিক শিক্ষক প্রয়োজন। তবে একাধিক শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের পদোন্নতি বিন্যাস কী হবে সেটিও ভাবা দরকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেমিনার আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. নাসিম রেজা। এসময় উপস্থিত ছিলেন সেমিনার আয়োজন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. সুদর্শন ভৌমিক। দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক এই সেমিনারের দেশ বিদেশের প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।