ভাল কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচার

তপন চক্রবর্তী, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥
বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে রনি গাজী (১৮) নামে এক যুবকে ভারতে পাচার করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশালের একটি ইটভাটায় কাজ দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের করা হয় রনিকে। কাজ দেওয়াতো দূরের কথা তাকে পাচার করে দেওয়া হয়েছে ভারতে। বর্তমানে সে অবৈধ প্রবেশকারী হিসেবে ভারতের কারাগারে রয়েছে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের সুরমান গাজীর ছেলে রনি। হতদরিদ্র পরিবারে জম্ম তার। বাবা পেশায় চা বিক্রেতা। অভাবের সংসারে অষ্টম শ্রেনীর গন্ডি পার করে আর পড়াশুনা করতে পারেনি রনি। সেই সংসারের অভাব আর বাবার কষ্ট দূর করার জন্য কাজ করতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দালালের খপ্পরে পড়ে এখন ভারতের কারাগারে রনি।
রনির বাবা সুরমান গাজী জানান, চলতি বছরের ৭ অক্টোবর বরিশালের একটি ইট ভাটায় কাজ দেওয়ার নাম করে ছেলে রনি গাজী (১৮) কে নিয়ে যায় তালা উপজেলার মাছিয়াড়া গ্রামের মুনসুর মোড়ল। ইট ভাটায় কাজ দেওয়া তো দূরের কথা ছেলেকে পাচার করে দিয়েছে ভারতে।
নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর (৯ অক্টোবর) ভারতের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাসাত শহরের চাপাঢালি মোড় হতে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে মামলা করে সেদেশের পুলিশ। বর্তমানে রনি ভারতের দমদম কারাগারে রয়েছে।
সুরমান গাজী বলেন, ছেলে আমাকে বারবার ফোন দিচ্ছে। ও (রনি) বলছে, ‘আব্বা মুনসুর কোন কাজ দেয়নি। আমাকে ভারতে পাচার করে দিয়েছে। আমি এখন জেলখানায় বন্দি আছি। তুমি আমাকে নিয়ে যাও।’ একথা গুলো বলছিলেন আর অঝোরে কাঁদছিলেন সুরমান গাজী। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে ছেলে ফিরে পাওয়ার আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।
সুরমান গাজী বলেন,‘যে ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিল সে এখন ধরা দিচ্ছে না। ও নানা ধরণের হুমকি দিচ্ছে। কোন কিছু করলে আমাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে মুনসুর।’
বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোনে মুনসুর মোড়লের সাথে যোগযোগ করা হলে তার স্ত্রী মাজেদা বেগম মোবাইল ধরেন। এসময় মাজেদা বলেন,‘রনিকে ভালো কাজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা জানতাম।’