পথ চলার এক দশক

চলতে চলতে ১০ বছর পেরিয়ে ১১ বছরে পা দিল দৈনিক স্পন্দন। নিছক কম সময় নয়। সাদাকে সাদা এবং কালো বলার নিয়তে মহান স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ে আমাদের পথ চলা শুরু হয়েছিল বিজয়ের মাসে। একই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা এগিয়ে চলেছি এক দশক ধরে।
আপন পক্ষকে আমরা সবসময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের স্লোগান-‘সত্যের সন্ধানে অবিচল’ থাকা। এই প্রতিপাদ্যে টিকে থাকার নিরন্তন সংগ্রাম আমাদের। সেই সংগ্রামের বড় উপাদান সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠতা। মূল্যবান এই দুই উপাদান ধারণ করে প্রতিদিনের কাজ শুরু হয় আমাদের। পাঠকের কাছে দেয়া প্রতিশ্র“তি রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা প্রতিনিয়ত। সংবাদে শঠতা ঘৃণা করে স্পন্দন পরিবার। তাই যে কোন সংবাদে ব্যক্তিস্বার্থ নয়, সমাজ ও দেশের স্বার্থ বড় করে ফুটে ওঠে পাতায় পাতায়। ব্যক্তি তখনই বড় হয়ে ওঠে যখন সে নির্যাতিত। তার পক্ষে কথা বলে স্পন্দন। দলীয় আদর্শে আমাদের বিশ্বাস, তবে দলীয়করণে নয়।
উপর্যুক্ত কথামালার যৌক্তিকতা গত ১০ বছর চারপাতার এ সংবাদপত্রটি নজির স্থাপন করে দেখিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ যশোরসহ দেশের সকল ঐতিহ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট থেকেছি আমরা। আমরা বিশ্বাস করি একটি সংবাদপত্র যেমন চলমান ইতিহাস, তেমনি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সাক্ষ্য। ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষার পরম্পরার বড় উপাদানই হচ্ছে দৈনিক সংবাদপত্র।
রুচির সাথে আপোষ করি না আমরা। রুচির ও বাণিজ্য গুলিয়ে একাকার করে দেয়াকে চরম অপছন্দ স্পন্দন পরিবারের। তাই পথ চলার প্রথম দিনটি থেকে আজ পর্যন্ত মিথ্যা কথা সম্বলিত রুচিহীন কোন বিজ্ঞাপন স্থান পায়নি পত্রিকাটিতে। যদি শিল্প হিসেবে দেখা যায়, তাহলে প্রতিদিনের পণ্য সংবাদপত্র। পাঠক এর ভোক্তা, সেই ভোক্তা যদি পণ্যটিকে তার পরিবার পর্যন্ত নিতে না পারেন, তবে সার্থকতা কোথায়? এমন চেতনায় দৈনিক স্পন্দন প্রতিদিন সকালে পাঠকের হাতে পৌঁছে নান্দনিকতার ছোঁয়ায় রুচিশীলতার দৃষ্টান্তে।
আমরা থাকতে চাই ভাল যে কোন কিছুর সাথে। সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় রয়েছে আমাদের ব্যাপক উৎসাহ।
স্পন্দন’র এক ঝাঁক নিষ্ঠাবান সংবাদকর্মী সব সময় ছুটে চলেছেন ‘খবরের সন্ধানে, সত্যের সন্ধানে’। ঘটনার কেন্দ্রে গিয়ে তুলে আনছেন তরতাজা সব খবর। এ কারণে পত্রিকাটি আস্থা অর্জন করেছে পাঠকের। তাইতো দিনে দিনে স্পন্দন’র পাঠক সংখ্যার যেমন বিস্তৃতি ঘটেছে, তেমনি বেড়েছে প্রত্যাশা। পাঠককুলের এই আকাশ ছোঁয়া প্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে স্পন্দন পরিবার প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ প্রয়াস চালানোর অঙ্গীকার করছে।
যথেষ্ট আন্তরিকতা ও বিচার বিশ্লেষণের পরই দৈনিক স্পন্দনে প্রত্যেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে শতভাগ নির্ভুল হয়ত সম্ভব নয়। তারপরও আমরা যথেষ্ট সতর্কতায় সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করি। চেষ্টা করা হয় পাঠকের মতামতের সর্বোচ্চ মূল্যায়নের। এ কারণে যে কোন বিষয়ে কিম্বা সমস্যা সংকটে অসংখ্য পাঠক চিঠি লিখে, ফোন করে বা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের মতামত, পরামর্শ, মূল্যায়ন তুলে ধরেন। অগণিত পাঠকের এই আস্থা ভালবাসায় আমাদের বুক ভরে ওঠে। আশা করি সকলের শুভ কামনায় ও সহযোগিতায় স্পন্দনের এ পথ চলা অব্যাহত থাকবে।