প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক >প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর আগামী ফেব্রুয়ারিতে হচ্ছে।

গণভবনে শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর- ছবি: পিআইডিশনিবার ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর দেখা করে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এতথ‌্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধ্বে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এখন দুই দেশের কর্মকর্তারা বসে তা ঠিক করবে।”

বৈঠকে আকবর বলেন, “ভারতের সরকার এবং জনগণ শেখ হাসিনার সফরের জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে।”

আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও আগামী ১৮ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরের কথা ছিল। কিন্তু তা স্থগিতের কথা দুদিন আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে শেখ হাসিনার এই সফর হওয়ার কথা ছিল। মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম সফরের পর তার জমানায় শেখ হাসিনার এটাই হওয়ার কথা ছিল দ্বিপক্ষীয় প্রথম সফর।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে আলোচনা করেন এম জে আকবর।

আলোচনায় শেখ হাসিনার হাঙ্গেরি সফরের সময় তুর্কমেনিস্তানে বিমানের জরুরি অবতরণের বিষয়টিও আসে।

প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এনিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তুর্কমেনিস্তানে বিমানের জরুরি অবতরণের পর বিমানবন্দরে সে দেশে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দেখা করার কথাও আকবরকে বলেন শেখ হাসিনা।

সাক্ষাতে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এই দুই নেতার জন্য দু’দেশের সম্পর্ক আরও প্রসারিত হয়েছে।

“বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব,” বলেন আকবর।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ‌্যে বেশ কয়েকটি সমস‌্যার সমাধান গত কয়েক বছরে হলেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি এখনও আটকে আছে।

শেখ হাসিনা ভারতের প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, যে কোনো প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতার সম্পর্কে তা প্রভাব ফেলবে না।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সরকার ও জনগণের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা অতি অল্প সময়ে সেদেশের সৈন্য ফেরত নেওয়াকে ‘ইতিহাস’ বলে উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে আকবর বলেন, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। জলবিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়তে পারে বলে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিক আকবর বলেন, কোনো সভ্য সমাজ সন্ত্রাসবাদকে মেনে নেবে না।

গুলশান হামলাকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনাসহ এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে মূলত স্থিতিশীলতা নষ্ট এবং অগ্রগতির ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করতে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথাও আবার বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে।

সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, মূখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং বাংলাদেশের ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা উপস্থিত ছিলেন।