কলারোয়ায় আত্মহত্যার প্ররোচণা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল গ্রেফতার

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি>
কলারোয়ায় আত্মহত্যার প্ররোচণা মামলায় সোনাবাড়িযা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সালিশে অপমান করার ঘটনা সইতে না পেরে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা করা হয়। এই মামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া গ্রামে। গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ সাংবাদিকদের জানান, আপত্তিকর সম্পর্কের অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার সোনাবাড়িয়া গ্রামের আফরোজা (১৬) নামে এক কিশোরী ও পলাশ নামের এক যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পারিষদ কার্যালয়ে আনা হয়। এসময় সালিশের এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান তাদের বকাবকি করেন। এক পর্যায়ে মারধরও করা হয়। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে শনিবার ওই কিশোরী আত্মহত্যা করে। এই ঘটনায় শনিবার আত্মঘাতী কিশোরীর ভাই ইব্রহিম খলিল বাদি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, ২ চৌকিদারসহ ৭ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। শনিবার গভীর রাতে পুলিশ ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, চৌকিদার ইসমাইল হোসেন ও জয়দেবকে গ্রেফতার করে। এরপর রোববার দুপুরে এই মামলার আর এক আসামি সোনাবাড়িয়া গ্রামের হাসানকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, আফরোজা শুক্রবার পড়ন্ত বিকেলে সোনাবাড়িয়া বাজার মোড়ের একটি ফ্লেক্সি লোডের দোকানে মোবাইল ফোনে লোড দিতে যায়। এসময় স্থানীয় কয়েকজন পলাশ নামের একটি ছেলেসহ কিশোরীকে আটকে রেখে আপত্তিকর সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ তোলে। পরে এদের বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। এরপর বকাঝকা ও মারধরের পর এদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরের দিন শনিবার দুপুরে আফরোজা এই গ্লানি সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে বলে জানা যায়।
সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় তিনি কাউকে মারধর করেন নি। চৌকিদার এক ছেলে ও মেয়েকে তার কাছে আনলে তিনি বকাবকি দিয়ে ছেড়ে দেন। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। আফরোজার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এপর্যন্ত এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম মনিরুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রোববার কলারোয়ায় সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলারোয়া উপজেলা আওলামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ইউপি চেয়ারম্যানদের আয়োজনে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তালা-কলারোয়ার সংসদ সদস্য ও ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরো সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। সমাবেশে অন্যান্যের মধে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, জেলা আ.লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত হোসেন, উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি আলহাজ্ব খয়বার মাস্টার, ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার নুরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন আল মাসুদ বাবু, ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি, ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুুবুর রহমান মফে, ইউপি চেয়ারম্যান আসলামুল আলম আসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।