যশোরে কথিত গোলাগুলিতে প্রাণ গেল আরও এক যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরের ফের কথিত গোলাগুলিতে ইউসুফ (২৯) নামে আরও এক যুবক নিহত হয়েছে। পুলিশ বলছে দুই দল সন্ত্রাসীর গোলগুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইউসুফ। অপরদিকে তার ভাইয়েদের দাবি তাকে শুক্রবার রাতে শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকা থেকে আটক করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ১৬জনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করেছে।
কোতয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে জানতে পারেন, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকায় দুইদল সস্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। সে সময় কোতয়ালি থানার এসআই মোকলেছুজ্জামান সেখানে গিয়ে দেখেন টিবি ক্লিনিকের পাশে এক যুবক রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি ওই যুবককে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। রোববার সকাল সোয়া ৯ টার দিকে ওই যুবক মারা যায়। পরে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে নিহত যুবকের নাম ইউসুফ। সে ঘোপ জেলরোড বৌ বাজার এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি মামলা আছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানস্যুটারগান, এক রাউন্ড গুলি, একটি বন্দুকের গুলির খোসা এবং দুইটি হাত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ইউসুফের নিহতের ঘটনায় পুলিশের বর্ণনার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে তার দুই ভাই। ওমর শরীফ রাজা ও সিদ্দিক হোসেন নামের এ দুইজন দাবি করেন গোলাগুলি নয়, পুলিশ আটক করার পর মারা গেল ইউসুফ। তাদের দাবি শুক্রবার রাতে চাঁচড়া মোড় থেকে ইউসুফকে আটক করে পুলিশ।
ভাই রাজা বলেন, কোতয়ালি থানার এসআই ইউসুফ তার কাছে শুক্রবার তাকে প্রথমে বলেন, ইউসুফ ওষুধ কোম্পানির পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাইয়ে জড়িত। তিনি তার (রাজা) কাছে ওই টাকা ফেরত চান এবং শনিবার রাতে তিন লাখ টাকা চান, যার রেকর্ডিং তার মোবাইল ফোনে আছে বলে দাবি রাজার।
এসআই ইউসুফ জানিয়েছেন, নিহত ইউসুফ গত ২৪ অক্টোবর সকালে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডস্থ মসজিদের সামনে অফসোনিন ফার্মার সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাই মামলার আসামি। ওই ছিনতাইয়ের সাথে আরো ৫ জন জড়িত। গত ২৬ নভেম্বর শহরতলীর বিরামপুর এলাকা থেকে আরমান সরদার রনি নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছিল। সে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং তার সাথে যে ৫ জন জড়িত তাদের মধ্যে ইউসুফ ছিল বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ছিনতাইয়ের পর ওই টাকা নিহত ইউসুফের শ্বশুরবাড়ি বাঘারপাড়ার দোহাকোলায় নিয়ে গিয়ে ভাগবাটোয়ারা হয়। ইউসুফ তার ভাগের সাড়ে ১২ হাজার টাকা পায়। আটক রনি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাস্থ করিমনগর এলাকার আব্দুর রবের ছেলে। ওই ছিনতাইয়ের পেছনে বাকি চার জনের তিনজনের বাড়ি খুলনায় এবং একজনের বাড়ি যশোরে। এরা একটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। এই গ্রুপটি যশোরের গোল্ডলিফ কোম্পানির ডিপো অফিস, সুগন্ধা ফিলিং স্টেশন, করিম ফিলিংস্টেশনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ডাকাতি করার পরিকল্পনায় ছিল।
এদিকে গোলাগুলির ঘটনায় কোতয়ালি থানার এসআই মোকলেছুজ্জামান হত্যা এবং অস্ত্র আইনে আলাদা দুইটি মামলা করেছেন। আসামিরা হলো, ইউসুফ গ্রুপের শহরের জেলরোড এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে প্রিন্স (২৮), খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাস্থ মুজিব স্মরণী বৌবাজারের পেছনের বর্তমানে যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডস্থ মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইকরামুল হক ওরফে সিয়াম, ওরফে আকাশ ওরফে গালপোড়া ইকরাম (২৮), সুনীলের ছেলে রবি ওরফে ইনফরমার রবি (২৯), ঘোপ নওয়াপাড়া রোডস্থ আবুল হোসেনের ছেলে রানা (৩০), ঘোপ জেল রোডের টাক বাবুর ছেলে নয়ন (২৭), সদর উপজেলার সানতলা এলাকার মৃত নওশের আলীর ছেলে স¤্রাট (৩২), মণিরামপুরের হানুয়ার গ্রামের বর্তমানে শেখহাটি ইটভাটা এলাকার রাজ আলীর ছেলে ডাকাত হাবিব (৩২), শিশির গ্রুপের শহরের ষষ্টিতলা পাড়ার নিত্য ঘোষের ছেলে শিশির ঘোষ, দুলালের ছেলে সাদ্দাম (২৮), বেজপাড়া চোপদারপাড়ার তোরাব আলীর ছেলে রানা ওরফে স্বর্ণকার রানা (২৯), শংকরপুরের তৌহিদ কাজীর ছেলে ভাইপো রাকিব (২৮), আশ্রম রোডের বায়তুলমামুর জামে মসজিদের পেছনের তুনর দুই ছেলে জাহিদ হোসেন (২৫) এবং জাফর (২৮), শংকরপুর বাসটার্মিনাল এলাকার মুজিবর ওরফে মজিদের ছেলে রাজিব (২২), মুরাদ পকেটমারের ছেলে জুম্মান (২৮) এবং রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার রিপনের ছেলে প্রিন্স (২৫)। এছাড়া আরো অজ্ঞাত ১০/১২ জন আছে।
নিহতের ভাই সিদ্দিক হোসেন দাবি করেছেন, নিহত ইউসুফ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সদস্য ছিলেন। তিনি উপশহর খাজুর বাসস্ট্যান্ডের কলারম্যান। তার বিরুদ্ধে পুলিশ সন্দেহ জনকভাবে ওষুধ কোম্পানির টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনে। সে ছিনতাইকারী না। তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ নেই। শনিবার রাতে সংবাদ পেয়ে পরিবারের অনেক সদস্য হাসপাতালে যায়। কিন্তু পুলিশ তার কাছে যেতে দেয়নি। ফলে বিনাচিকিৎসায় ইউসুফের মৃত্যু হয়েছে।