যশোরে নকল ভিকসল ও অ্যাসিড উদ্ধার, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর শহরের দুইটি স্থান থেকে বসুন্ধরা কোম্পানির ভিকসল নকল করে বাজারজাত এবং এসিড রাখার অভিযোগে দুইটি মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলো, চৌগাছার মুক্তারপুর গ্রামের সফিকুর রহমানের ছেলে রাজু (২৭) এবং শহরের বারান্দীপাড়া খালধার রোড এলাকার মৃত শেখ করিম উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম কচি (৫৩)।
কোতয়ালি থানার এসআই মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, রোববার দুপুর দুইটার দিকে শহরের পুরাতনকসবা কাজীপাড়া এলাকার সাইদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকে রাজু আহমেদ। সে ওই বাড়িতে বসে নকল ভিকসল তৈরি করে। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৭২ বোতল নকল ভিকসল, বেশ কিছূ পরিমান খালি বোতল, ৫শ পিস বোতলের কর্ক, বেশ কিছু পরিমান লেবেল এবং ৩ ড্রাম অ্যাসিড উদ্ধার করা হয়। রাজু শহরের ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নকল ভিকসল তৈরি ও তা বাজারজাত করছে।
কোতয়ালি থানার এসআই কাইয়ুম মুন্সি জানিয়েছেন, রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বারান্দীপাড়াস্থ থালধার রোডের একটি বাড়ির নিচতলায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলাম কচিকে আটক করা হয়। পরে তার ঘর থেকে ২৪টি নকল ভিকসলের বোতল, ৭০ লিটার এসিড, ২শ’টি খালি বোতল এবং বেশ কিছু পরিমান লেবেল উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাসিড দিয়ে কচি দীর্ঘদিন ধরে নকল ভিকসল তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল। এই ভিকসল সাধারনত গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে।

যশোরে ২০ লাখ টাকার
অলংকার চুরি, মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের দুইটি বাড়িতে আলাদাভাবে সোনার গহনা এবং নগদ টাকা চুরির ঘটনায় রোববার রাতে আলাদা দুইটি মামলা হয়েছে। দুই বাড়ি থেকে মোট প্রায় ২০ লাখ টাকার অলংকার চুরি হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার রাধাঁনগর গ্রামের আব্দুল খালেক শিকদারের ছেলে জহির উদ্দিন শাহীন এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তিনি শহরের জেলরোডস্থ কুইন্স হাসপাতালের সামনে দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। ৯ ডিসেম্বর তিনি বাড়িতে তালা মেরে গ্রামের বাড়িতে যান। ১০ ডিসেম্বর বাড়ির মালিক মোবাইল করে জানায় তার ঘরে চুরি হয়েছে। তিনি ওই দিন শহরের ভাড়াবাড়িতে এসে দেখেন তার ঘরের তালা ভাঙা। ঘরের মধ্যে থাকা নগদ সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং বেশ কিছু পরিমান সোনার গহনা নেই। কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। তার ধারনা ওই বাড়ির তৃতীয় ও চতুর্থতলায় নির্মান কাজ চলছে। ওই নির্মাণ কাজের মিস্ত্রিরা তার ঘরের তালা ভেঙ্গে ঘর থেকে চুরি করে নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি হয়েছে তিন লাখ সাড়ে ২২ হাজার টাকার মালামাল।
শহরের লোন অফিসপাড়ার শেখ মহব্বত আলী টুটুল জানিয়েছেন, খালধার রোডের আলী আকবরের বস্তির ভাড়াটে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী সালমা বেগম তার বাড়িতে বুয়ার কাজ করতো। তার বাড়ির সব সোনার অলংকার ঘরের আলমারিতে রাখা হয়। গত ৩০ অক্টোবর সালমা অজ্ঞাত কারণে কাজ ছেড়ে দেয়। তার স্ত্রী ২৫ অক্টোবর তার সকল অলংকার ওই আলমারিতে রাখেন। ৩ ডিসেম্বর তার স্ত্রী আত্মীয়র বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে গহনার আলমারি খুলে দেখেন তার আলমারিতে গহনা নেই। তিনি সন্দেহ করেন কাজের বুয়া সালমাকে। ১১ ডিসেম্বর তিনি সালমার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং এক পর্যায়ে সালাম আরো একজনের সহযোগিতায় গহনা চুরি করে বলে স্বীকার করে। আলমারিতে সাড়ে ২৯ ভরি সোনার গহনা, দেড় ভরি হোয়াইট গোল্ড এবং দেড় ভরি ওজনের একটি ডায়মন্ডের আংটি ছিল। সব মিলিয়ে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার গহনা চুরি করে। সালমার সহযোগির নাম হাবিব হাওলাদার। সে মাদারিপুরের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবরাকান্দি গ্রামের মৃত শের আলীর ছেলে। বুয়া সালমার বাড়িও মাদারিপুরের শিবচর উপজেলার শিবরাকান্দি গ্রামে। এই ঘটনায় দুইজনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।