জমে উঠেছে নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচন

ফরহাদ খান>
প্রতীক পেয়ে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন নড়াইল জেলা পরিষদের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সদস্য প্রার্থীরা। নড়াইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী (জেলা আ.লীগের সহসভাপতি) লড়ছেন আনারস প্রতীকে। অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আ.লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস চশমা প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে রেখেছেন। এছাড়া ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এবং ৫৮ জন সদস্য প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ৫৫৫জন ভোটারের কাছে প্রার্থীরা ছুটছেন সকাল থেকে রাত অবধি। এদিকে প্রার্থীদের প্রচারপত্র (পোস্টার) ছাপাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নড়াইলের ছাপাখানাগুলো।
আ.লীগ প্রার্থী সৈয়দ আইয়ুব আলী বলেন, দলীয় নেতাকর্মীসহ ভোটাররা আমার সঙ্গে আছেন। বিজয়ী হলে নড়াইলকে সুন্দর ও ভালো জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। ডিজিটাল বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে কাজ করে যাব। অপরপ্রার্থী সোহরাব হোসেন বিশ্বাস বলেন, ভোটারদের ভালো সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে নড়াইলের সার্বিক উন্নয়নে সবার মতামতের ভিত্তিতে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সুন্দর একটি জেলা গড়ে তুলব। সংরক্ষিত ১নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য সোহেলী পারভীন নিরী (দোয়াত কলম প্রতীক) জানান, নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকা। এখানে ভোটার আছেন ১১৯ জন। বেশির ভাগ ভোটার আমার সঙ্গে আছেন। সংরক্ষিত ৩নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য প্রার্থী সালমা রহমান কবিতা (দোয়াত কলম প্রতীক) বলেন, মানুষকে নিঃস্বার্থ ভাবে সেবা দেয়ার জন্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। এর আগে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণকে সেবা দিয়েছি। এ নির্বাচনে বিজয়ী হলে সবাইকে সাথে নিয়ে জেলার উন্নয়ন করতে চাই। সংরক্ষিত ৫নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য প্রার্থী লাকী বেগম (বই প্রতীক) জানান, প্রতিনিয়ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তিনি। গণসংযোগকালে ভোটাররা খুব সাড়া দিচ্ছে। বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এই প্রার্থী।
১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী শেখ ছদর উদ্দীন শামীম (উটপাখি প্রতীক) বলেন, লক্ষèীপাশা ও জয়পুর ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া পৌরসভা নিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকা। এ নির্বাচনে ভোটাররা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সঙ্গতকারণে, তারা (ভোটার) বেশ সচেতন ও বিবেকবান। তাই বারবার ভোটারদের কাছে যাচ্ছি, ভোট প্রার্থনা করছি। বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আমি। ২ নম্বর ওয়ার্ডের (মাউলি, খাশিয়াল ও জয়নগর ইউনিয়ন) সদস্য প্রার্থী শেখ হাদিউজ্জামান (হাতি প্রতীক) জানান, এই ওয়ার্ডের ৪০ ভোটারের অধিকাংশই তার সঙ্গে আছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। এক্ষেত্রে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। অপর সদস্য প্রার্থী খোকন কুমার সাহা জানান, সদরের আউড়িয়া, ভদ্রবিলা ও বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন নিয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড। এই তিনটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৯। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তার অবস্থান ভালো বলে জানিয়েছেন তিনি।
জয়পুর ইউনিয়নের ভোটার তাসলিমা ও পারভীন বেগম জানান, যারা দুর্দিনে পাশে থাকবে, তাদেরকে ভোট দিবেন তারা। লক্ষèীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী বনি আমিন বলেন, যে প্রার্থী নড়াইলকে মডেল জেলা হিসেবে পরিণত করতে চান, তাকে আমরা ভোট দিবো। লোহাগড়া পৌরসভার কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বলেন, খেলাধূলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও উন্নয়ন বঞ্চিত আমরা। এক্ষেত্রে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবো। সাধারণ মানুষ জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের ভোট দেয়ার সুযোগ না থাকলেও সৎ, যোগ্য ও কর্মপরায়ণ প্রার্থীর বিজয় দেখতে চান তারা। দিপালী প্রেসের স্বত্ত্বাধিকারী মিলন ঘোষ জানান, পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ডিজিটাল ব্যানার ছাপার কাজ ভালোই চলছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমনি আর্থিক সচ্ছলতাও এসেছে।
সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা সেখ আনোয়ার হোসেন জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপ্লব বিশ্বাস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১৪জন সদস্য পদে নির্বাচনসহ চেয়ারম্যান এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আগামি ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ভোটার সংখ্যা ৫৫৫। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪২৬ এবং নারী ভোটার ১২৯। ওয়ার্ড সংখ্যা ১৫টি। জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেন, নির্বাচন উপলক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা করতে পারব বলে আশা করছি।