বসুন্দিয়ায় নারীকে হত্যার অভিযোগে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া কেফায়েতনগর হাজামপাড়ায় স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগমকে হত্যার অভিযোগে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের ছেলে সোহেল রানা বাদি হয়ে বুধবার মামলাটি করেছেন।
এজাহারে সোহেল রানা উল্লেখ করেছেন, তিন মাস আগে বাড়ি ছাড়েন তিনি। বোনকে নিয়ে তার মা সেলিনা বেগম বাড়িতে থাকতেন। এবং গ্রামে ফেরি করে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। সোমবার সকালে তিনি তার মায়ের মৃত্যুর কথা জানতে পারেন এবং বাড়িতে এসে ঘটনা শোনেন। এরপর থানায় মামলা করেন। কে বা কারা তার মাকে গলাই ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ দিকে ওই এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে সেলিনা হয়তো ধর্ষনের শিকার হতে পারে। তার কোন পরিচিত বা প্রতিপক্ষ ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করতে পারে। এ সময় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মরদেহের সুরতহাল করেছেন বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জাফর আহমেদ। তিনি বলেছেন, ওই নারী ধর্ষণ হয়েছিলেন কি না তা বলা যাচ্ছেনা। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। তবে তার ডান হতে দুটি পোড়া দাগ রয়েছে। মনে হচ্ছে জলন্ত সিগারেটের স্যাঁকা। লাশ ঘরের মধ্যে মেঝেতে পড়েছিল। বাড়ির পাশের এক নারী সোমবার সকালে তাকে খোঁজ করতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে লোকজনের খবর দেয়। তবে সব জানা যাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর। এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে এই হত্যার ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছে ওই এলাকার লোকজন। কারণ সেলিনা ছিলেন স্বামী পরিত্যক্তা। একমাত্র মেয়ের বিয়ের পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। আর ছেলে মাস তিনেক হলো মাকে ফেলে শ্বশুরালয়ে উঠেছেন। ফলে একাকি দিন কাটাতেন সেলিনা। তিনি তার পৈত্রিক ভিটায় বসবাস করতেন । ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশিদের সাথেও তার ভাল সম্পর্ক ছিল না। ফলে পুলিশ ওই ঘটনায় যে কাউকে ফাঁসাতে পারে বলে আতংকে রয়েছে।