বাঘারপাড়ায় স্বাধীনতার ৪৫ বছরপর নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ

ইকবাল কবির, বাঘারপাড়া >
স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর বাঘারপাড়ায় নির্মাণ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। দীর্ঘ এ সময় কোন সরকার বা উপজেলা প্রশাসন, এমনকি কোন জনপ্রতিনিধিও এ মহৎ কাজের উদ্যোগ নেননি। তবে এবার এ তিনের সমন্বিত উদ্যোগে বাঘারপাড়া চিত্রা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতা চত্ত্বর। আর এ চত্ত্বরেই স্থাপিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ।
মহান স্বাধীতা যুদ্ধের সময় যশোরের সব থেকে বেশি রাজাকার, আলবদর অধ্যুষিত এলাকা ছিল বাঘারপাড়া। এ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অনেক ছোট বড় যুদ্ধ হয়েছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর সাথে। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বাঘারপাড়া এলাকায় প্রবল হওয়ায় শত্রু মুক্ত করা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। যশোর সদর মুক্ত হওয়ারপর বাঘারপাড়ায় রাজাকার ও আলবদর বাহিনী অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এ সুযোগেই ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতায় বাঘারপাড়া মুক্ত হয়। এরপর অনেক সরকার বদল হয়েছে। পরির্বতন হয়েছে শীর্ষ জনপ্রতিনিধিও। প্রশাসনের চেয়ারে এসেছেন অনেকেই। দীর্ঘ ৪৫ বছরেও কেউ ভাবেননি বাঘারপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের কথা। স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য অনেক বছর আগে উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের এক কোনায় নামকাওয়াস্তে নির্মিত হয় বিজয়স্তম্ভ। সেখানেই বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এ দুই দিবসে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে আসছে। সম্প্রতি যশোর ৪ আসনের এমপি রণজিৎ কুমার রায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান সিদ্ধান্ত নেন বাঘারপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের। এ সিদ্ধান্তে একাত্মতা প্রকাশ করে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ। চূড়ান্ত হয় জায়গা নির্ধারণ। বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আকতারুজ্জামান স্মৃতিস্তম্ভের নক্শা তৈরির পর গত মাসেই শুরু হয় নির্মাণ কাজ। ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজের পঞ্চাশভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ আগামী ২৬ মার্চের আগেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি আরো বলেন, আগামীকাল (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উদ্বোধনের মাধ্যমে স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।