১৫০ কোটি টাকার লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে মোচিকের আখ মাড়াই শুরু

টিপু সুলতান>
১৫০ কোটি টাকার লোকসানের বোঝা নিয়ে ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ২০১৬-২০১৭ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১টায় মিল হাউজের ডোঙ্গায় আখ ফেলে আখ মাড়াই উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান একেএম দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিষেশ অতিথি ছিলেন বিএসএফআইসি পরিচালক (সিডিআর) হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকুর রহমান, কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মকছেদ আলী, মোচিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি আতিয়ার রহমান, মোচিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম নবী, আখ চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম ।
এবার একর প্রতি ৫৪.৭০ মেট্রিকটন সর্বোচ্চ ফলনের জন্য বালিয়াঙ্গার আখ চাষী শাজাহান আলী শেখ ও সর্বোচ্চ ৪৩.৫৯ একর জমিতে আখ চাষ করায় গোয়ালহুদা গ্রামের আখ চাষী মাসুদ রানা পারভেজকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এবার মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ৯০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৭ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ৭.৫০%। এবার মাড়াই মৌসুম ৭৫দিন চালু রাখার দিন ধার্য করা হয়েছে।
এই শিল্পে ২০১৫-১৬ আখ মাড়াই মৌসুমে ১কেজি চিনি উৎপাদন করতে খরচ পড়েছে প্রায় ১৪৮.৪৫ টাকা। অথচ প্রতি কেজি চিনি বিক্রি করেছে মাত্র ৪৭ টাকা দরে। গত ২ মাস আগে চিনিকল কর্তৃপক্ষ চিনির দাম বাড়িয়ে ৬০ টাকা করেছে। এই হিসেবে এ মৌসুমে লোকসান গুণতে হয় প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মিলটি শুরুর পর থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা রয়েছে। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শনিবার মিলটি ২০১৬-১৭ মাড়াই মৌসুম উৎপাদন শুরু করে।
এদিকে মোচিকে প্রায় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৬ হাজার ১২৪ মেট্রিক চিনি অবিক্রিত রয়েছে। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, ১কেজি চিনি উৎপাদনে যে খরচ হয় তাতে ৩ ভাগের একভাগ দরে ভোক্তাদের কাছে চিনি বিক্রি করে সরকার। চিনির দাম কম থাকায় সুগার মিলটিতে লোকসান হচ্ছে। বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিয়ার রহমান জানান, মিলটিকে লাভজনক করতে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম করছেন। ইতিমধ্যে সুগার মিলগুলো লাভজনক করতে ৭৮০ কোটি টাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবার ঠাকুরগাও সুগার মিল ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে বায়ো ফার্টিলাইজার, রিফাইনারি সুগার ও ডিসটেলারি কার্যক্রম শুরু করা হবে। বছরের ১২ মাস মিলটি চালু রাখার জন্য খুব শিগগির মোবারকগঞ্জ চিনিকলে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি মিনারেল ওয়াটার ও রিফাইনারি সুগারের কার্যক্রম শুরু হবে।
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৮৯ দশমিক ৮১ একর নিজস্ব সম্পত্তির ওপর নেদারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চিনিকলটির ২০ দশমিক ৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮ দশমিক ২২ একর জমিতে স্টাফদের জন্য আবাসিক কলোনি, ২৩ দশমিক ৯৮ একর জমিতে পুকুর ও প্রায় ১০০ একর জমিতে পরীক্ষামূলক আখ খামার রয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষা মূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই চলে এবং প্রথম মৌসুমে ১০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে এক হাজার মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন হয়। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় পরবর্তী ১৯৬৭-৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চিনিকলটি তাদের উৎপাদন শুরু করে।