মহেশপুরে ঘর ভাঙচুর প্রাণনাশের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর>
সরকারের কাছ থেকে ১২ শতক জমি বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘ দিন করে বসবাস করে আসছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুশুমপুর গ্রামের আজিজুল হকের পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই কিছুদিন পর্বে প্রতিবেশী মোয়াজ্জেম ও তার দলবল সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেয়া আজিজুল হকের পরিবার জমির উপর থেকে দু’টি ধানের গোলাসহ একটি ঘর ভেঙে দেয়া হয়েছে। এমন কি ওই জমিতে পুনরায় ঘর তুলতে গেলে এখন জীবননাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
কুশুমপুর গ্রামের আজগর আলী জানান, মহেশপুর উপজেলার কুশুমপুর মৌজার ১৫৫ খতিয়ানের ৭০৬ নম্বর দাগের ১২ শতক জমি ২০০৫ সালে সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেয় আজিজুল হক। পরে সরকারের কাছ থেকে ১২ শতক জমি বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে দু’টি গোলা ও একটি টিনের ছাউনি দেয়া ঘর নির্মাণ করা হয়। যা কয়েক দিন আগে প্রতিবেশী মোয়াজ্জেম ও তার দলবল একেবারে ভেঙে দিয়েছে।
ইউপি সদস্য কহিনুর আক্তার জানান, ২০০৫ সালে সরকারের কাছ থেকে ১২ শতক জমি বন্দোবস্ত নেয় আজিজুল হক। কিন্তু শ্বরুপপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান সুকৌশলে আজিজুল হকের পরিবারকে কোন নোটিশ ছাড়ায় একই ডিসিআরের মাধ্যমে (০৫৬২৯৩) ২০১৫ সালে প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগমের নামে সরকারের ১২ শতক জমির পরিবর্তে আমার নিজের মালিকানাধীন ৩ শতক জমিসহ ১৫ শতক জমি বন্দোবস্ত দিয়েছেন। একজন সরকারি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কিভাবে আগের দেয়া বন্দোবস্তকারী মালিকদেরকে নোটিশ ছাড়ায় অন্যকে জমি বন্দোবস্ত দেয়। কিন্তু তারপরও আমার মালিকানাধীন জমি ৩ শতক কিভাবে অন্যের নামে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। এখন প্রতিবেশীরা আমার মালিকানাধীন ৩ শতক জমিসহ সর্বোমোট ১৫ শতক জমি জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছে। এমনকি এর প্রতিবাদ করলে আমার স্বামী আজগর আলীকে (৫০) পিটিয়ে জখম করা হয়ছ।
স্বরুপপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে দু’দফায় থানায় বসাবসি হয়েছে। সরকারের জমি সরকার অন্য মালিককে দিতে পারে। তাই বলে কোন ব্যক্তির জমি দিতে পারে না। যে ৩ শতক জমি দেয়া হয়েছে সেটা খুব তাড়াতাড়ি আমিনের মাধ্যমে মাপযোগ করে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
স¦রুপপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার জানান, ২০০৫ সালে সরকারের কাছ থেকে ১২ শতক জমি বন্দোবস্ত নেন আজিজুল হক। কিন্তু তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা প্রতি বছর নতুন করে বন্দোবস্ত নেয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ দিন তা না নিয়ে উল্টো জমির মালিকানা দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে সে মামলায় তারা হেরে গিয়ে এখন আবার ওই জমি বন্দোবস্ত নেয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরো জানান, সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর সরকার কি আর তাদের সে জমি কোন দিনই বন্দোবস্ত দেবেনা। তাই ১০ বছর পর ২০১৫ সালে আনোয়ারা বেগমের নামে সরকারের ১৫ শতক জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান, মুলত ওই দাগে সরকারের ৩৩ শতক জমি রয়েছে। কিন্তু সরকারের গেজেটে ভূল ক্রমে ১২ শতক উঠেছে। আর ২০০৫ সালে সরকারের কাছ থেকে ১২ শতক জমি বন্দোবস্ত নিয়ে আর আজিজুল হক ১০ বছরেও আর জমি বন্দোবস্তর জন্য আবেদন না করে উল্টো জমির মালিকানা দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেও হেরে গেছেন। তাই পরে আমরা প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগমের নামে ১৫ শতক জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।