লরি হামলা: তিউনিসীয় শরণার্থীকে খুঁজছে বার্লিন পুলিশ

 রয়টার্স>>জার্মানির বার্লিনে ক্রিসমাস মার্কেটে ভিড়ের উপর লরি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যার ঘটনায় তিউনিসীয়ার এক নাগরিককে খুঁজছে পুলিশ।

জার্মানির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, যে লরিটি নিয়ে হামলা চালানো হয় সেটির চালকের আসনের নিচে একটি অস্থায়ী পারমিট খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। যেটা আনিস এ নামের এক ব্যক্তির। যিনি ১৯৯২ সালে তিউনিসিয়ার দক্ষিণের শহর তাতোউনিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।

পুলিশ জানায়, নর্থ রাইন-ওয়েস্টফাইয়া রাজ্য থেকে অস্থায়ী ওই পারমিট প্রদাণ করা হয়েছে।

লরি চালকের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় খুব সম্ভবত সন্দহভাজন ওই ব্যক্তি আহত হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে।

জার্মানির দৈনিক বিল্ডের খবরে বলা হয়, ইসলামপন্থি জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে সন্দেহে সম্ভাব্য বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে তিউনিসিয়ার ওই তরুণ পুলিশের নজরে ছিল।

সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ইস্পাত বহনকারী লরিটি যখন বার্লিনের প্রাণকেন্দ্র ব্রাইটশেইডপ্লাৎজে বড়দিন সামনে রেখে বসা বাজারে ঢুকে পড়ে, কাঠের ছোট ছোট দোকানগুলো তখন পর্যটক আর স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট। ওই ভিড় মাড়িয়েই লরি নিয়ে ৫০ থেকে ৮০ মিটার এগিয়ে যায় চালক।

জার্মান পুলিশ এ ঘটনাকে একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বিবেচনা করেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে।

ওই রাতেই প্রাথমিকভাবে পুলিশ নাভেদ বি নামে পাকিস্তানি এক শরণার্থীকে আটক করে। কিন্তু নাভেদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে নেওয়ার মত পর্যাপ্ত তথ‌্যপ্রমাণ না পাওয়ায় মঙ্গলবার তদন্তকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়।

কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের ধারণা, হামলাকারী এখনও মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র আছে।

জার্মানির দুইটি পত্রিকায় তিউনিসিয়ার ওই ব্যক্তির বয়স ২১ বা ২৩ বলে জানিয়েছে, যে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত।

একজনই এ হামলা চালিয়েছে নাকি আরও কেউ জড়িত আছে সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে লরির ভেতরে যে মৃতদেহটি পাওয়া গেছে তিনিই লরির আসল চালক ছিলেন বলে জানা গেছে। গুলিতে নিহত ওই ব্যক্তি পোল্যান্ডের নাগরিক।

লরির মালিক অ্যারিয়েল জুরাউইস্কিও পোল্যান্ডের নাগরিক। তিনি জানান, স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল ৪টা থেকে তার লরিসহ চালক নিখোঁজ ছিল।

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দাবি তাদের এক জঙ্গি এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি।

তবে গত জুলাইয়ে ফ্রান্সের নিস শহরেও একইভাবে একটি উৎসবের ভিড়ে ট্রাক চালিয়ে দিয়ে ৮৬ জনকে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী ট্রাকচালক নিহত হয়। আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। নিস হামলাকারীও তিউনিসিয়া বংশোদ্ভূত ছিলেন।