সবার জন্য ভ্রমণ প্রচারাভিযান> মোটরসাইকেলে দেশ ভ্রমণকারী দম্পতি যশোরে

নিজস্ব প্রতিবেদক>
মোটর সাইকেলে দেশ ভ্রমণকারী এক দম্পতি বুধবার যশোর এসে পৌঁছেছেন। এদিন ৪৩তম জেলা হিসেবে তারা সবার জন্য ভ্রমণ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে যশোর জেলা প্রশাসক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ট্যুরিজম বোর্ডের অর্থায়নে গত ৩০ অক্টোবর তারা মুন্সিগঞ্জ থেকে এ যাত্রা শুরু করেন।
ঢাকার মিরপুর শাহআলী এলাকার আলমগীর আহমেদ চৌধুরী ও তার স্ত্রী চৌধুরানী দিপালী আহমেদ জানান, ভ্রমণ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাছাড়া ভ্রমণের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষ সম্পর্কে জানা যায়। এতে করে দেশকে যেমন জানা যায়, তেমনি জ্ঞানের পরিধিও বাড়ে। এ বিষয়টি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ৬৪ জেলায় ভ্রমণের চিন্তা মাথায় আসে। আর এ উদ্যোগকে বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ট্যুরিজম বোর্ড ও রাসেল ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেড। ট্যুরিজম বোর্ডের অর্থায়ন ও রাসেল ইন্ড্রাস্টিজের দেয়া ১৫০সিসি লিফান কে পে আর মোটরসাইকেল নিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে গত ৩০ অক্টোবর তারা যাত্রা শুরু করেন। ৪৩তম জেলা হিসেবে বুধবার যশোর এসে পৌঁছান। এরপর তারা জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের সাথে কথা বলেন।
পরে প্রেসক্লাব যশোরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তারা বলেন, ভ্রমণের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি আমরা প্রত্যেক জেলায় পর্যটন অবকাশ কেন্দ্র নির্মাণের দাবির প্রতি জনমত গঠন করছি। তাছাড়া বর্তমান যুব সমাজ মোটরসাইকেলিং করতে ভালোবাসে তাদের কাছে আমাদের বার্তা মোটরসাইকেলে দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব। আমরা স্বামী-স্ত্রী তার উদাহরণ।
ট্যুরিজম বোর্ড প্রথম কোন দম্পতিকে স্পন্সর করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তারা বলেন, পারিবারিক বন্ধনের শৈথল্যতার কারণে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি বছরে একবার ভ্রমণের যে সুযোগ ছিল তাও রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি বাংলাদেশের সংস্কৃতি যৌথ পরিবারের। মাইক্রো (ক্ষুদ্র) পরিবারের যে ধারণায় সুখ খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে যৌথ পরিবারের কোন বিকল্প নেই। এ বার্তাও আমরা যুব সমাজকে দেয়ার চেষ্টা করছি। তারা বলেন, ১৪ বছরের বিবাহিত জীবনে আমাদের ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমরা বছরে এক মাস ভ্রমণ করি। ভ্রমণে বের হলে ছেলে সন্তানটি তার চাচা-চাচি, দাদা-দাদির কাছে থাকে। তার জীবনযাপন ও পরীক্ষার ফলাফল সবই ভালো।
এ দম্পতি আরো বলেন, ভ্রমণকালে আমরা প্রতিটি জেলার পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানসমুহ ঘুরে দেখছি, স্থানীয় খাবার সংগৃহিত সকল পর্যটন পণ্যের পরিচিতি, ছবি, ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউব এ আপলোড করে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজে গিয়েও পর্যটনের গুরুত্ব ও ভ্রমণকালের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছি। যাতে সবার মধ্যে ভ্রমণের আগ্রহ জন্মায়।
প্রসঙ্গত, আজ তারা সাতক্ষীরার উদ্দেশে যশোর ছাড়বেন। আগামী ১৯ জানুয়ারি তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ভ্রমণ শেষ করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে এসময় দু’একদিন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পর্যটক যুগল।