তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬

স্পন্দন ডেস্ক>
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায়, বাগেরহাটের মংলায় ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে দামুড়হুদায় এক পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। মংলায় নিহত হয়েছেন দুই যুবলীগ কর্মী।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শিশু ও নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন, আহত হন একজন।

শুক্রবার বিকালে জয়রামপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দামুড়হুদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল খালেক জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকের ইঞ্জিনে আগুন ধরে গেলেও দ্রুত ফায়ার সার্ভিস এসে তা নিভিয়ে ফেলে।

নিহতরা হলেন জাকির হোসেনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার (২২), নাজমুল ইসলাম (১) ও অজ্ঞাত পরিচয় (৩৫) একজন।

আহত হয়েছেন আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জাহিদ হোসেন (১৯)। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিদর্শক খালেক জানান, বিকাল ৪ টার দিকে দর্শনার দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে শিশুসহ চার আরোহী চুয়াডাঙ্গার দিকে আসছিলেন। জয়রামপুর শেখপাড়ায় পিছন দিক থেকে দ্রুতগামী একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।

“এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুটি ঘটনাস্থলে মারা যায়। বাকি তিনজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর এক নারী ও এক পুরুষকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরোহীসহ মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে পড়ে। এলাকার লোকজন ট্রাকের নিচ থেকে আহতদের বের করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়। তবে শিশু নাজমুল ঘটনাস্থলেই মারা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ফজলে এলাহী খান জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। পরে দর্শনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া দামুড়হুদার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ফজলে এলাহী বলেন, ঘটনাস্থলে রাস্তায় একটি বাঁক রয়েছে। এখানে কোনো স্পিড ব্রেকার নেই। দর্শনার দিক থেকে চুয়াডাঙ্গার দিকে আসার সময় বাঁকের কারণে বেশিরভাগ সময় সামনের যানবাহন দেখা যায় না।
ট্রাকের চালক বাঁকের কাছে এসে সামনের মোটরসাইকেল দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বলেন ফজলে এলাহী।
অপরদিকে বাগেরহাটের মংলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছে আরো একজন যুবলীগ কর্মী। আহত যুবলীগ কর্মী রনিকে মংলা থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মংলা থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বিজয় দিবস উপলক্ষে চিলা ইউনিয়ন যুবলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে যুবলীগ কর্মী শোভন হোসেন (২৪), সৈকত (২৩) ও রনি (২০) একটি মটরসাইকেলে করে চিলা থেকে মংলা শহরে ফিরছিল। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মটর সাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই শোভন, সৈকত ও রনি গুরুতর আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা শোভন ও সৈকতকে মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ট্রাংকলরির চাপায় এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে কালীগঞ্জ শহরের শ্রী লক্ষ্মী সিনেমা হলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, সকালে ওই ব্যক্তি কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড থেকে বাইসাইকেল যোগে নিমতলা বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। পথে খুলনাগামী ট্রাংকলরী তাকে চাপা দেয়।এতে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।এ ঘটনায় পুলিশ ওই ট্রাংলরীটিকে আটক করেছে তবে চালক পালিয়ে যায়।