ডুমুরিয়ায় মহিলা কলেজে এইচএসসি’র ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি>
খুলনা জেলার ডুমুরিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা-২০১৭’র ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে শহীদ স্মৃতি মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে। হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে নির্ধারিত বোর্ড ফি বাদে অবৈধভাবে ৭শ’ থেকে শুরু করে এক থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত অর্থ বেশী আদায় করা হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছে গরীব পরিবারের শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে শহীদ স্মৃতি মহিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ চলছে। আরো ২/৩দিন চলবে। এখানে মোট পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৪২ জনের মতো। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে সরকারি নির্ধারিত বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেয়া যাবে না। কিন্তু এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী মুন্নী খাতুনের পিতা শেখ আবুল কালাম গত ১৭ ডিসেম্বর মুন্নীকে সাথে নিয়ে কলেজে যায় ফরম পূরণের টাকা দিতে। হিসাব করে ৩ হাজার ৯শ’ টাকা তার কাছে দাবি করা হয় কলেজ পক্ষ থেকে। একপর্যায়ে ওই টাকা থেকে ৫শ’ টাকা কমে মুন্নীর ফরম পূরণ হয়ে যায়। গত ১৮ ডিসেম্বর তারিখে ওই পরীক্ষার্থী মুন্নীর পিতা কলেজ গভর্ণিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন মহিলা কলেজে এইচএসসি’র ফরম পূরণের নামে ৭শ’ টাকা থেকে শুরু করে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে কিছু শিক্ষার্থীদের পূর্বের বকেয়া টাকা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকারি আইনে বলা হয়েছে পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় কোন প্রকার বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেয়া যাবে না।
এ প্রসঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বোর্ড নির্ধারিত ফি আর্টসের জন্য ২ হাজার ১শ’ টাকা, কমার্সের জন্য ২ হাজার ২শ’ টাকা ও সাইন্স’র জন্য ২ হাজার ৫শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে’। তবে অতিরিক্ত এক থেকে দেড় হাজার টাকা নেয়া বিষয়ে তিনি অস্বীকার করলেও শিক্ষার্থী প্রতি সেশন ফি বাবদ ৫শ’ টাকা এবং অন-লাইনে আবেদন ফি ১শ’ টাকা ও ফরম ফি বাবদ ১শ’ টাকা হারে অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত মেহনাজ বলেন, ‘গত ১৪ ডিসেম্বর’১৬ তারিখে কলেজ গভর্ণিং বডির সভায় আমি কলেজ অধ্যক্ষকে বলে দিয়েছি কোনভাবেই বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা যেন না নেয়া হয়। সুতরাং বাড়তি টাকা নেয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে আমি প্রিন্সিপাল সাহেবকে এক্ষুনি নিষেধ করছি।’