বেনাপোলে শিক্ষককে কারাদণ্ডের ঘটনায় তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক >
বেনাপোলে পিইসিই পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে হল সুপারকে আটকের প্রতিবাদে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনসহ মাসব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চালাচালির একপর্যায়ে কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শনিবার বেলা ১১টার সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও শৃঙ্খলা কর্মকর্তা(এডিপিই) আবুল কাশেম মিয়া তদন্তে বেনাপোল এসেছেন।
জানা যায়, গত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসিই) চলাকালীন সময়ে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রের হল সুপার বজলুর রহমানকে নকল সরবরাহের অপরাধ দেখিয়ে আটক করেন। পরে পরীক্ষার হল থেকে শিক্ষককে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে উপজেলা পরিষদে নিয়ে ৭দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তারই প্রতিবাদে শিক্ষকের নিঃশর্ত মুক্তি ও নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালামের অপসারণ দাবিতে ঘটনার দিনই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, পরের দিন উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলার ৮শ’ শিক্ষক শিক্ষিকার মানববন্ধন ও পর্যায়ক্রমে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিসহ অভিযোগ দেন শিক্ষক নেতারা।
গত ২৯ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর শার্শা উপজেলা প্রাথমিক সমিতির সভাপতি ইজ্জত আলী ও সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত (বিভাগীয়) করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রের যে হলটিতে ঘটনাটি ঘটেছিল সে কক্ষের পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষাতকার নেন। দীর্ঘক্ষণ শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রবেশ নিষেধ করে ছাত্র ছাত্রীদের (সরেজমিন) কথাগুলো শোনেন। পরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবির কথাগুলোও শোনেন।
আবুল কাশেম মিয়া দৈনিক স্পন্দনকে বলেন, পিইসিই পরীক্ষার হল থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক এক শিক্ষককে কারাদন্ড দেওয়ার প্রতিবাদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর শিক্ষক নেতাদের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত করতে বেনাপোলের এসেছেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমরা সকলেই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চাই। কোন সংঘাত নয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা তদন্তে দোষি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।