ঝিনাইদহে শীতের পিঠায় জীবিকা

টিপু সুলতান >
ঝিনাইদহের প্রকৃতিতে লেগেছে হিমেল হওয়ার পরশ। উঠেছে নতুন ধান। গ্রাম-বাংলার প্রতিটি বাড়িতেই চলছে আয়োজন করে নানা ধরনের পিঠা-পায়েশ তৈরির ধুম।
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর সময় মেলা ভার। যেহেতু শীতের পিঠার ভিন্ন স্বাদ এনে দেয় নতুন মাত্রা, সে কারণেই শহরের কিছু হতদরিদ্র পরিবার এই মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শহরের অলিতে-গলিতে, প্রধান প্রধান মোড় গুলোতে, বিভিন্ন রাস্তার ধারে, বাসস্ট্যান্ডে, বড়-বড় বিপণী বিতানের সামনে, স্কুল-কলেজের সামনে, অফিস-অদালত চত্বরসহ নানা জায়গায় এক শ্রেণীর মানুষ রকমারি স্বাদের পিঠার পসরা সাজিয়ে বেশ জমজমাট ব্যবসা করছেন। একদিকে তারা শহরের মানুষের পিঠা খাওয়ার সাধ মেটাচ্ছেন, তেমনি তারা অর্থনৈতিক ভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
কোনো ঝামেলা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই শীতের পিঠা খাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হল ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। এ সকল দোকানে প্রতিদিন বিকেল ৪ থেকে শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে রমরমা বেচাকেনা।
শহরের পিঠা বিক্রেতা সোহেল রানা বলেন, শীতের পিঠার ব্যবসাটা লাভজনক হওয়ায় বছরের এই সময়টায় তিনি পিঠা ব্যবসা করে থাকেন। এ ব্যবসায় তার ৫ জনের সংসার ভালোভাবেই চলে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন বিকেলে তিনি দোকান দেন। তিনি এখানে ভাপা পিঠা বা ধুপি বিক্রি করেন। চালের গুড়া, খেজুরের পাটালি, নারিকেল ও লবণের মিশ্রনে তৈরি হয় এ পিঠা।
প্রতিদিন তিনি ১৫ কেজি চালের গুড়া, ৩/৫ কেজি খেজুরের পাটালি ও ৬টা নারিকেল ব্যবহার করে থাকেন পিঠা তৈরিতে। প্রতিটি পিঠা ৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। যা থেকে তার প্রতিদিন লাভ হয় ৪ থেকে ৫শ’ টাকা।
কামাল মিয়া নামে একজন পিঠা খেতে খেতে বললেন, সব ধরনের ক্রেতা এখানে আসে পিঠা খেতে ও কিনতে। ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে পিঠা বানানোর সময় হয়ে ওঠে না। তাই এখানে সেই স্বাদ নেয়ার চেষ্টা করছি।