ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন নিয়ম আসছে যুক্তরাজ্যে

সৈয়দ নাহাস পাশা, লন্ডন প্রতিনিধি>
ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে ব্যালট পেপার নেওয়ার নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার।

২০১৮ সালের কাউন্সিল নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় এ নতুন নিয়মে ভোট হবে। পরীক্ষামূলক এ পদ্ধতি সফল হলে ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনও তা চালু করা হবে বলে যুক্তরাজ্যের মিনিস্টার ফর দ্য কন্সটিটিউশন ক্রিস স্কিডমোর জানান।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, “যে কোনো পর্যায়ে ভোট জালিয়াতি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। প্রত্যেকের মত প্রকাশ ও গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের অধিকারকে সুরক্ষা দিতেই নতুন এ নিয়ম চালু করা হচ্ছে।”

যুক্তরাজ্যের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে নাম-ঠিকানা বলেই ব্যালট পেপার নিতে পারেন। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় অনেকেই অন্যের ব্যালট নিয়ে জাল ভোট দেন বলে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির নির্বাচন কমিশন অভিযোগ পেয়েছে।

২০০৫ সালের পর থেকে দক্ষিণ এশীয় অধ্যুষিত এলাকায় এ ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটের ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে বলেও যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলো দাবি করে আসছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র নির্বাচনে বাংলাদেশি লুৎফর রহমানের জালিয়াতি এবং পরে সাজার ঘটনা এ দাবিকে ‘শক্ত ভিত্তি’ দিলে নড়েচড়ে বসে যুক্তরাজ্য সরকার।

ভোট জালিয়াতি রোধে ব্যবস্থা নিতে সরকার তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এরিক পিকলসকে পরিস্থিতি পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়।

নির্বাচন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ শেষে পিকলস এ বছরের অগাস্টে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে ৫০ দফা সুপারিশ দেন।

ওই সুপারিশের আলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ১৮টি নির্বাচনী এলাকায় পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মত পরিচয়পত্র দেখিয়ে ব্যালট নেওয়ার নতুন নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাজ্যের মিনিস্ট্রি ফর দ্য কন্সটিটিউশন।

এসব এলাকার মধ্যে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসহ বার্মিংহ্যাম, ব্লাকবার্ন, ব্র্যাডফোর্ড, কার্কলিজ, লুটন, ওল্ডহ্যাম, ব্রিস্টল, বার্নলি, কলডারেডেল, কভেন্ট্রি, ডারবি, পেন্ডল, পিটসবরো রয়েছে।