মনিরামপুরে নিহত পপি ও রুমিচার দাফন সম্পন্ন> বেঁচে থাকা একমাত্র দুগ্ধ শিশু মিমি নানীর কোলে বসে মাকে খুঁজছে

আব্দুল মতিন>
‘নানী, আম্মু কই দুধ খাবো-১৮ মাসের শিশু কন্যা আফসানা মিমির এমন আর্তনাদের কথা শুনে উপস্থিত কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। গত সোমবার মাস্টার্স ইন-কোর্স পরীক্ষা দিতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ফতেমা আক্তার পপি। পপির বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু কন্যা আফসানা মিমি অকালে মাকে হারালেও তার আর্তনাদে এলাকাবাসীকে কাঁদিয়ে ফেলেছে।
পপি পারভীন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নী গ্রামের আযাদ রহমানের স্ত্রী। সোমবার মোটরসাইকেলযোগে পরীক্ষা দেবার পথে যশোরের হুশতলা নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন। মোটরসাইকেলে থাকা অপর আরোহী মনিরামপুর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার রুমিচা গুরুত্বর আহত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন যশোর হাসপাতালে মারা যায়।
মঙ্গলবার সরেজমিন উপজেলার দত্তকোণা গ্রামে গেলে দেখা যায় নিহতদের দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত পপির মা শিপালি বেগম মেয়ের অকাল মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি শোকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। এসময় নিহত পপির চাচা হাফিজুর রহমান বলেন, মা পপির মৃত্যুর খবরে বাড়িতে যখন জনতার ভিড়, তখন দুগ্ধ শিশু কন্যা আফসানা মিমি চারিদিকে মানুষের মুখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। মাঝে মধ্যে কোলে বসে নানীর কাছে মায়ের খোঁজ করছিল এবং ক্ষুধা নিবারণের জন্য দুধ খাওয়ার বায়না ধরছিল। উপস্থিত জনতা শিশু মিমির এ দৃশ্য দেখে হাউ-মাউ করে কেঁদেছেন। অপরদিকে একই স্থানে ২ টি মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার নিহতদের নামাজে জানাযা শেষে পাবিারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।