নতুন বছরে ৩৬ কোটি ২১ লাখ বই দেওয়া হবে

স্পন্দন ডেস্ক>
নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে ৩৬ কোটি ২১ লাখ বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট এ ‘আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০১৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে নানা সমস্যা থাকার পরও গত কয়েক বছর ধরে বই উৎসব সফলতার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। কয়েক বছর আগে বই উৎসব ভেস্তে দেওয়ার জন্য বইয়ের গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু তারপরও আমরা নির্দিষ্ট সময়ে বই উৎসব পালন করেছি। নানা সমস্যা থাকার পরও আমাদের সফলতা প্রশংসার দাবিদার।

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশই কন্যাশিশু। আমাদের দেশেও এর হারও একই। ২০ বছর আগে নারী আর এই সময়ের নারীকে মূল্যায়নের অবস্থা তুলনা করা প্রায় অসম্ভব। এক সময় আমাদের নারীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বাংলাদেশ অতি অল্প সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫১ শতাংশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৩ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে। সব ধরনের কাজেই এখন মেয়েরা পারদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসেন বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। এটি শুধু অর্থনীতির ক্ষেত্রে নয় সব ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের নারী-পরুষের সমতায়নের বিষয়টির কারণে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেশকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। যে দেশে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজে যোগ দিয়েছে, সেই দেশই উন্নতি করতে পেরেছে।

এটি স্পষ্ট নারী পুরুষের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমারা যে উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখছি তা নারীকে বাদ দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের হেড অব হেলথ ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক জিনাত ইমতিয়াজ।

বক্তারা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নারীদের অবস্থান অনেক শক্ত। দেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন নারী ঠিক তেমনি বিরোধী দলীয় নেত্রীও নারী। শুধু তাই নয় দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে নারীর অবস্থান নেই। এ দেশের মুক্তিযুদ্ধেও নারীদের ভূমিকা ছিলো উল্লেখযোগ্য। আমরা নারীদের নিয়ে গর্ববোধ করি।