সন্তুষ্ট নন শিক্ষামন্ত্রী

স্পন্দন ডেস্ক>
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেটের (জেডিসি) সব সূচকে ইতিবাচক ফলাফলে খুশি হলেও তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার অষ্টম শ্রেণির সমাপনীর ফল প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, “সব সূচকেই ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে। তারপরেও একে আমরা সন্তুষ্টির কথা বলছি না। অবশ্যই আমরা খুশি হয়েছি, দেশবাসী খুশি হলে আমরা আরও বেশি খুশি হব।”
অষ্টম শ্রেণির সমাপনীতে এবার ৯৩ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন।
গত বছর এই পরীক্ষায় ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ জন।
গতবারের থেকে এবার পাসের হার শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৫১ হাজার ৩২৫ জন।
গতবারের থেকে এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮৬৭টি বেড়ে ৯ হাজার ৪৫০টি হয়েছে। অন্যদিকে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫টি কমে ২৮টিতে নেমেছে।
এসব সূচককেই ইতিবাচক বলছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে আধুনিক-উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা।”
ঢালাও পাসের সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ছে না বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এতদিন শিক্ষার মান নিয়ে এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিলেও এখন একটু ভিন্ন সুরে কথা বলছেন।
“আমাদের ছেলে-মেয়েদের মান বেড়েছে, কিন্তু বর্তমান যুগে আমাদের চাহিদা অনুসারে যে মান দরকার, বিশ্ব মানের সমতা অর্জন করা দরকার, তার থেকে আমরা অনেক পিছনে আছি। সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছেলে-মেয়েদের মান উন্নত করা। সেজন্য গুণগত মানসম্মত নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক দরকার, সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
প্রশ্ন ফাঁসের নামে একটা গোষ্ঠী লাভবান হয় উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ৫ হাজার থেকে তিন লাখ টাকায় ভুয়া প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে। ফেইসবুকে ভুয়া প্রশ্ন দিয়ে দিচ্ছে, শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা চ্যালেঞ্জ পড়ছে।
প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিজি প্রেসে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাকে ২৪ ঘণ্টাই সজাগ থাকতে হবে।
জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নাহিদ বলেন, এই পরীক্ষার গুরুত্ব তারাই উপলব্ধি করবেন যারা বাংলাদেশকে বুঝতে পারেন। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে গবির মানুষদের মধ্যে অর্ধেক স্কুলেই আসত না, পঞ্চম শ্রেণির আগে ৪৮ শতাংশ এবং নবম শ্রেণি পাসের আগে ৪২ শতাংশ ঝরেপড়ত।
পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষায় বসে শিক্ষার্থীরা এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষাকে স্বাভাবিক মনে করে বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।