সাতক্ষীরার আশাশুনিতে যাত্রাপালার নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর

নিয়াজ কওছার তুহিন, কালিগঞ্জ >
বিজয়ের মাসে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কোদন্ডা সবদলপুরে গত রোববার থেকে যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আশাশুনির কোদন্ডা সব্দালপুর হাজরা কালী মন্দিরের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে ১০ দিন ব্যাপী যাত্রাপালা আয়োজনের জন্য অনুমতি নেয়া হয়। কিন্তু এখানে যাত্রাপালার নামে চলছে নগ্ন নৃত্য। পাশাপাশি প্রশাসনের ছত্রছায়ায় প্রতিদিন বসছে জুয়ার বোর্ড। মোটা অংকের টাকা দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন নেতারা নির্বিঘেœ এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এখানে যাত্রাগানের নামে মেয়েদের দেহ দেখিয়ে উপার্জন করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। নৃত্য শিল্পীদের শরীরে স্বল্প পোষাক যা আইটেম হিন্দি গানকেও হার মানায়। এর সাথে সাথে এখানে অনেকটা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজাসহ নানা প্রকার নেশার দ্রব্য। যাত্রাগানের দর্শক সারিতে ভিড় করছে স্কুল-কলেজ পড়–য়া যুবক। এর অধিকাংশই আবার অংশ নিচ্ছে জুয়ার বোর্ডে। স্থানীয় যুবক ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অবস্থাপন্ন পরিবারের বিপথগামী যুবকরা নষ্ট করছে হাজার হাজার টাকা।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, জুয়ার চরকি বসানোর জন্য জুয়ার বোর্ডের মালিকদের প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে আয়োজকদের। আর দর্শকদের কাছ থেকে চেয়ারের জন্য তিন শত ও দুই শত টাকা করে নেয়া হচ্ছে। বাংলার জমিনে বসে নাচ-গান দেখার জন্য নেয়া হচ্ছে প্রতিজনের নিকট থেকে এক শত টাকা। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, সামনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। এসব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা যারা ভাববে তারাই নিজেদের আর্থিক সুবিধার জন্য অবৈধ কর্মকান্ড ও অশ্লীলতাকে অবাধে চলার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। উঠতি বয়সের ছেলেরা কোন বাধা না মেনে মেয়েদের অর্ধনগ্ন নাচ দেখার জন্য এবং জুয়ার চরকি ঘুরানোর জন্য দলবেঁধে ছুটছে সেখানে। জুয়ার টাকা ও অর্ধনগ্ন নাচ-গানের টিকিটের টাকা যোগাড় করার জন্য এলাকায় বাড়ছে চুরি ও ছিনতাই। সব মিলিয়ে এই অসামাজিক কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে এই এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে আশাশুনির থানার অফিসার ইনচার্র্জ (ওসি) গোলাম রহমান বলেন, এখানে আমার জানা মতে অশ্লীল কোন কিছুই হচ্ছে না। আর অশ্লীল কোন নাচ-গান যদি হয়ে থাকে সেটা আমার জানা নেই। তাছাড়া এটার অনুমতি আমি দেইনি। ডিসি মহোদয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনার কাছে যদি যাত্রাপালার কোন অশ্লীল ছবি বা ভিডিও থাকে তাহলে আমাকে দেন। আমি ডিসি মহোদয়কে দেখিয়ে ব্যাবস্থা নিতে পারব।
যাত্রাপালার নামে অশ্লীল নাচ-গান ও জুয়ার আসরের বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে আছি। অশ্লীল নাচগানের বিষয়ে কিছুই জানি না। অশ্লীলতা ও জুয়ার আসর যাতে না বসে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি ওসি সাহেবকে বলে দিয়েছি।