এক মাস ধরে অসুস্থ বায়েজিদ

মাগুরা প্রতিনিধি>
এক মাস ধরে জ্বর, শ্বাসকষ্ট আর প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার কারণে সব সময় কান্নাকাটি করতে করতে দুর্বল হয়ে পড়েছে মাগুরার সেই বায়েজিদ, যার পাঁচ বছরের শরীরে বাসা বেঁধেছে বিরল প্রজেরিয়া রোগ।
ওষুধ দেওয়ার পর জ্বর আর শ্বাসকষ্ট কদিন কম থাকলেও আবার বাড়ে। আর জ্বালাপোড়ার চিকিৎসায় দরকার অপারেশন, কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা করতে পারছেন না চিকিৎসকরা।
মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিউর রহমান বলেন, “বায়েজিদের নুনুর চামড়া অস্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে ঝুলে গিয়ে প্রস্রাবের রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। এ কারণে প্রস্রাব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
“সমস্যা সমাধানের জন্য অপারেশ প্রয়োজন। কিন্তু তার বড় ধরনের শরীরিক সমস্যা থাকায় অপারেশন ঝুঁকিপূর্ণ।”
প্রজেরিয়া রোগে দিন দিন বার্ধক্যের ছাপ প্রকট হতে থাকে। আর রোগাক্রান্তরা সাধারণত ১২-১৪ বছর বাঁচে বলে জানান মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালট্যান্ট দেবাশিষ বিশ্বাস।
এ মুহূর্তে কী করা যেতে পারে সে বিষয়ে এই চিকিৎসকরা বলেন, মাগুরায় কোনো ব্যবস্থা নেই। এর আগে তাকে ঢাকা নেওয়া হয়েছিল। সেখানেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বিদেশি কোনো স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা কিছু করতে পারবেন কি না তা বলা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বায়েজিদকে শান্ত করার জন্য তার দাদা-দাদি, মা-বাবা সবাই পর্যাক্রমে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নানা রকম খেলনা, পছন্দের বিভিন্ন খাবার দেওয়ার কথা বলছেন। কোনো কিছুতেই কান্না থামছে না।
বায়েজিদের বাবা লাবলু শিকদার বলেন, “প্রায় এক মাস ধরে বায়েজিদ অসুস্থ। প্রস্রাব করতে গেলে ঠিকমতো বের হয় না। এ সময় জ্বালাপোড়া করে শরীরের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। আর প্রায়ই জ্বর থাকে, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
“মাগুরা শহরে নিয়ে একাধিকবার ডাক্তার দেখানো হয়েছে। ওষুধ খেলে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দু-এক দিনের জন্য কমলেও প্রস্রাবের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”
নানাবিধ শারীরিক সমস্যার কারণে বায়েজিদের খাওয়া-দাওয়া কমে গেছে। এ কারণে দিন দিন শরীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এর আগে চিকিৎসকদের পরামর্শে ছেলেকে অন্যের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকায় নিয়ে দেড় মাস থেকে আসেন লাবলু।
তিনি বলেন, “সেখানে কত কত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হল। কোনো ফল হল না। এখন আর কী করব।”
ছেলের অসুস্থতার কারণে গোটা পরিবারে অশান্তি নেমে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ ঠিকমতো কোনো কাজ করতে পারছে না। ফলে গরিব পরিবারে আর্থিক সংকট আরও বাড়ছে।
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “কোনো বাবার সামনে সন্তানের এমন অবস্থা সহ্য করা যায় না। আমি আমার সর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে হলেও ছেলের সুস্থ জীবন চাই।”