ঝাঁপা বাওড়ের গোপনে কমিটি, অভিযোগ করে বিপদে মৎস্যজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর মনিরামপুরের ঝাঁপা বাওড়ের ৬ বছরের ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও সমিতির সাধারণ সদস্য মৎস্যজীবীদের ভাগ্যে জোটেনি একটি টাকাও। সমিতির সভাপতি-সম্পাদক গত অর্ধযুগ ধরে ৬০৫ একরের বিশাল এ বাওড় থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় করলেও লোকসানের কথা বলে সদস্যদের কোন হিসেবই দেন না। এ অবস্থায় বাওড়টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে অনেকটা গোপনে আহবায়ক কমিটি গঠন করে অনুমোদন নিতে তোড়জোড় করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের সাক্ষর জাল করে সমবায় কর্মকর্তার কাছে নামের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সমিতির ১৭৯ সদস্যের মধ্যে ১২২ জন অভিযোগ করেছেন । অভিযোগ করায় হুমকির মুখে বাওড়ে মাছ ধরতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মাছ লুটের অভিযোগ পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সূত্র মতে, মনিরামপুরের ঝাঁপা বাওড়টি ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমিতির নামে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ৬ বছরের ইজারা নেওয়া হয়। ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় নেওয়া সেই ইজারা মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের চৈত্র মাসে। দীর্ঘ এই ৬ বছরে মাছ চাষ করে সেখান থেকে লাখ লাখ টাকা ঘরে তুলেছেন সমিতির সভাপতি কৃষ্ণপদ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমারসহ গুটি কয়েকজন। কিন্তু সমিতির সদস্যদের একটি টাকাও তারা দেননি। এমনকি সমিতি ইজারা নেওয়ার সময় সদস্যরা যে টাকা দিয়েছিলেন তাও ফেরত পায়নি।
এমন তথ্য দিয়ে সমিতির সদস্য সুধাংশ বিশ্বাস জানান, তিনি ২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন; কিন্তু কানা-কড়িও ফেরত পাননি। এমনকি সভাপতি-সম্পাদক হিসেবও দেন না। সদস্যরা জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি বলে আসছেন তারা ব্যাপক লোকসানে আছেন।
জানতে চাইলে শনিবার দুপুরের দিকে সভাপতি কৃষ্ণপদ বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে টেলিফোনে বলেন, সরকারের কাছে ৪৫ লাখ ও মাছের আড়তে দেনা আছি আরও প্রায় ১০ লাখ। কি কারণে দেনা হলেন-প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মাছের ভাইরাস লেগেছিল; আবার বন্যায়ও বাওড় ডুবে গিয়েছিল।
এদিকে বাওড় ইজারা নিয়ে মোট ৫৫ লাখ টাকা লোকসানে আছেন দাবি করলেও আগামী মৌসুমে ইজারা পেতে ডুবে ডুবে জল খাচ্ছেন কৃষ্ণপদ বিশ্বাস ও সন্তোষ কুমাররা। ২০১২ সালের ৫ মে তাদের কমিটি গঠন হয়ে ২০১৫ সালে মেয়াদ শেষ হলেও দায়িত্ব ছাড়েননি তারা। শুধু তাই না, মেয়াদ শেষের দেড় বছর পর গত ২৫ জানুয়ারি তারা গোপনে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন। তবে প্রশাসনের কর্তারা যেন না বুঝতে পারেন এজন্য বিদায়ী সভাপতি কৃষ্ণপদ বিশ্বাস নিজে পদে আসেননি। তার কাকাতো ভাইকে করেছেন আহবায়ক। কিন্তু এ অনিয়ম জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। তারা ১৯ ফেব্রুয়ারি মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে নালিশ করেছেন। তিনি ঘটনাটি শুনে সাথে সাথে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে ডেকে বিষয়টি জানতে চান। এসময় ‘সুবিধা ভোগী’ সমবায় কর্মকর্তা ১০৯ জনের স্বাক্ষরিত একটি তালিকা দেখান। কিন্তু ওই স্বাক্ষর জাল বলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রমাণ করে দেয় মৎস্যজীবীরা। ফলে ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ অতুল মন্ডল উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি শুনানির জন্য চিঠি ইস্যু করেন।
এদিকে কমিটি গঠন করতে গিয়ে বাঁধা পেয়ে নতুন ষড়যন্ত্র করছে বিদায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ। তারা মৎস্যজীবীদের নামে মাছ লুটের অভিযোগ দিয়েছে পুলিশের কাছে। তবে অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে সত্যতা পাননি বলে জানিয়েছেন রাজগঞ্জ ফাঁড়ির এসআই আনিস। শনিবার বিকালে তিনি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে এ তথ্য জানান।