বসুন্দিয়ায় শিশু ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ঘুনি নাথপাড়ায় ৮ বছরের এক শিশুকন্যা কয়েক দফা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু শিশুর পরিবার গরিব হওয়ায় প্রভাবশালীরা সালিশের নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে শিশুধর্ষণ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ঘুনি নাথপাড়ায় এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘুনি গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ঘুনি নাথপাড়ার ওই শিশুর পরিবার গরিব। তার মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে থাকেন। আর শিশুটি বাড়িতে একা থাকে। পিতামাতা বাড়িতে না থাকার সুযোগে গ্রামের মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি ঘুরে ঢুকে শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এভাবে তাকে কয়েকদিন ধর্ষণ করা হয়। কিন্তু শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। ফলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
সূত্র জানায়, এ নিয়ে এলাকার প্রভাবশালীরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষার জন্য কয়েকদফা সালিশ করেন। গত সোমবার বিকেলেও এ নিয়ে সালিশ হয়েছে। সেখানে ফারুক হোসেন নামে একজন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সালিশে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু নির্যাতিত শিশুর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়া বা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা থেকে বঞ্ছিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বসুন্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রাসেল বলেন, তিনি এ ধরনের একটি খবর শুনেছিলেন। কিন্তু বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার সময় পাননি। এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান রাসেল বলেন, ফারুকের সাথে তিনি কথা বলেছেন। ফারুক সেখানে গেলেও সালিশে ছিলেন না। তিনি ঝামেলা বুঝতে পেরে দূর থেকে চলে এসেছেন। চেয়ারম্যান আরো বলেন, শিশুর পরিবার কোন আইনের আশ্রয় চাইলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
এদিকে যোগাযোগ করা হলে বসুন্দিয়া ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই জাফর আহমেদ জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিবেন।