বুরুজবাগানে মাদক ও জঙ্গি বিরোধী সমাবেশে ডিআইজি> মাদক ব্যবসায়ী ও জঙ্গিরা ক্ষমা ভিক্ষা না চাইলে বাংলার মানুষ টিপে টিপে মেরে ফেলবে

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল>
খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক মনির উজ জামান বলেছেন, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের মূল উৎস মাদক আর এ মাদকের মাধ্যমেই আর্ন্তজাতিক চক্র বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা গডফাদার সেজে হায়েনার মতো বাংলার কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের জীবন নিয়ে খেলা করছে। তাদের লক্ষ্য আপনার আমার সন্তানকে নেশাগ্রস্ত করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ঠেকাতে হবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন আর বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখা হবে না।
মঙ্গলবার বিকেলে শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে মাদক ও জঙ্গীমুক্ত শার্শা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ ও সকল শ্রেণী পেশার সাধারণ জনগণের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে একথাগুলো বললেন তিনি।
যশোর-১(শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে ডিআইজি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল উন্নয়ন। বাংলাদেশের মানুষ অন্ন পাবে, চিকিৎসা পাবে, বস্ত্র পাবে, শিক্ষা পাবে, একটি উন্নয়নশীল দেশ হবে। কিন্তু হায়েনার দল বাংলার উন্নয়ন মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা ফাঁদ পেতে অবশেষে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর সপরিবারে হত্যা করে। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বেঁচে গিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাবার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ৪১ সালের মধ্যে উন্নত মধ্যম আয়ের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে চলেছেন। যা সারা বিশ্বের মানুষ এখন বাংলাদেশকে দেখিয়ে উদাহরণ দেওয়া শুরু করেছে। বাঙ্গালি জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য খুবই গর্বের।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে সেই হায়েনার দল জ্বালাও পোড়াও, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মাধ্যমে দেশকে থামিয়ে দিতে চাচ্ছে। তারা শোলাকিয়ায় মহা পবিত্র ঈদের নামাজেও বোমা হামলা চালিয়েছে। অটিজম রেস্তোঁরায় হামলা করে পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিরীহ মানুষদের হত্যা করে। আগুণে পুড়িয়ে মানুষকে হত্যা করে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনো তা বাস্তবায়ন করতে দেবে না। এদেশের মানুষ খুবই প্রতিবাদী। এঁরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। বাংলার মানুষ জীবন দিতে রাজি কিন্তু পরাজয় বরণ করে নিতে পারে না। যা বিশ্বের বুকে ইতিহাস সৃষ্টি করে ৫২’র ভাষা আন্দোলনে নিজেদের জীবন বিষর্জণ দিয়ে মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষাসহ ৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ বরণ ও ৩ লক্ষ মা-বোনেদের ইজ্জতের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাই মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাস ও জঙ্গিরা সাবধান। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে আপনাদের হাতের পরিধি গুটিয়ে না নিলে এবং সমাজের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা না চাইলে বাংলার ১৬ কোটি মানুষ আইনের আওতায় আপনাদেরকে ছাড় দেবে না। আপনাদেরকে পিঁপড়ের মতো টিপে টিপে মেরে ফেলবে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো বক্তব্য রাখলেন যশোর জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ও শার্শা উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের আহবায়ক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ও শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মনিরুজ্জামান।