অন্য দেশে হস্তক্ষেপ বন্ধে আইপিইউতে প্রস্তাব গৃহীত

মঈনুল হক চৌধুরী ও সাজিদুল হক বিডিনিউজ >স্বাধীন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ বন্ধের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)।

আইপিইউ’র শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক স্টান্ডিং কমিটিতে মঙ্গলবার খসড়া আকারে গ্রহণের পর বুধবার সাধারণ অধিবেশেনে এটিসহ ১৮টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই পার্লামেন্টারিয়ান ফোরামে এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ফোরামের শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক স্টান্ডিং কমিটিতে ৪৪-১০ ভোটে খসড়া প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছিল। বেলজিয়াম ভোট দানে বিরত থাকে।

বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ ৪৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।

অন্যদিকে এই ফোরামে না থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেইন, ফিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল।

১৮ দফা এই প্রস্তাবের মূল আলোচনায় ছিল-একটি দেশের ওপর অন্য দেশের হস্তক্ষেপ বন্ধের বিষয়টি।

বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে অঙ্গীকার করে পক্ষের দেশগুলো। বিশেষ কোনো কারণে প্রয়োজন হলে জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী তা করার উপর মত দেয় তারা।

গত দুই দিন বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট সদস্যরা এই খসড়া প্রস্তাবের ওপর তাদের মতামত তুলে ধরেন। অনেক দেশের প্রতিনিধিই অন্য দেশের দোষারোপ করেন।

বুধবার সাধারণ অধিবেশনে পর্তুগালের প্রতিনিধি ১২টি দেশের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “আমরা অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রস্তাব (স্বাধীন দেশের উপর অন্যদের হস্তক্ষেপ) গ্রহণ করতে পারছি না।

“মানবাধিকার একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। (মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে) একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ করা উচিৎ। তা না হলে ক্ষুন্ন হবে আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্ব।”

এ প্রতিনিধি জানান, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, কানাডা, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, লাটভিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেইন, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ডসহ ১২টি দেশ একত্রিত হয়ে প্রস্তাবটি বিরোধিতা করছে।

পর্তুগালের প্রতিনিধির বিরোধিতার পর আইপিইউ সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং বলেন, “এ প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে। যে ১২টি দেশের কথা বলা হয়েছে-তাদের অনেকেই এর বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে না, কিছু সমস্যা রয়েছে তাদের।

“আমি ব্যক্তিগতভাবে ফিনল্যান্ড ও জার্মানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে- তারা সবাই সব এজেন্ডার সঙ্গে একমত রয়েছে।”