দাম বাড়বে না যেসব পণ্য-সেবার

স্পন্দন ডেস্ক>
বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ বাস্তবায়ন হবে। তবে এ আইনের বাইরে রাখা হয়েছে আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত প্রায় হাজারের অধিক পণ্য ও সেবাকে। সে জন্য এসব পণ্য ও সেবায় নতুন আইন প্রভাব ফেলবে না অর্থাৎ এসব পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে না। অর্থমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী নতুন আইনে ভ্যাট বা মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত মৌলিক খাদ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, ডিম, ফল, তরল দুধ, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচ, মাংস, মুড়ি, চিড়া, আলুসহ সব ধরণের সবজি। তবে প্যাকেটজাত ও আড়াই কেজির বেশি হলে তরল দুধ, পেঁয়াজ, রসুন, গম, আটাসহ কিছু ভোগ্যপণ্যের ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। রুটি ও বিস্কুটসহ সব ধরণের ফার্স্টফুড ও বেকারি পণ্যের ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। আবার ভ্যাট দিতে হবে আদা, জিরা, লবঙ্গ, ধনিয়া, দারুচিনি, এলাচসহ অন্যান্য মসলার আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে। কলা, খেজুর, ডুমুর, আনারস, পেয়ারা, আম, গাব, লেবুজাতীয় ফল, আঙ্গুর, তরমুজ, আপেল, নাশপাতিসহ যেকোনো ফল, গোলমরিচ, ভ্যানিলা, দারুচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, জৈত্রী, এলাচ, মৌরী, ফেনেল, ধনিয়া, জিরা, আদা, জাফনার, হলুদ, তেজপাতা, কারি, মসলা, গম, মেসলিন, রাই, বার্লি, জই, ভুট্টা, ধান, সব প্রকার চাল, মুড়ি, সোরঘাম শস্য, বাজরা, ক্যানারাই বীজও ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় রয়েছে। মন্ত্রী জানান, নতুন আইনে সব অস্থায়ী হোটেল ও রেস্তোরাঁয়ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেসব হোটেল রেস্তোরাঁয় খাওয়া দাওয়া করে তাদেরও ভ্যাট দিতে হবে না। ফলে এসব হোটেলে খেলে খরচ বাড়বে না। ভ্যাট না থাকায় খরচ বাড়বে না দেশের মধ্যে (সরবারহ) অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যানবাহনের মাধ্যমে পরিবহন সেবা, ভাড়াকৃত পরিবহন ছাড়া ট্যাক্সি, বাস, মিনিবাস, লঞ্চ, স্টিমার, ফেরির মাধ্যমে পরিবহন সেবারও। এয়ারলাইন্স (চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া প্রদানকারী সংস্থা ব্যতীত) ও খাদ্যশস্য পরিবহন সেবাদাতাদেরও বাড়বে না খরচ। কৃষি পণ্যের মধ্যে বীজ, সকল প্রকার সেচ সেবা, বীজ সংরক্ষণ সেবা, মৎস্য, জলজপ্রাণী ও জলজ সম্পদ আহরণ ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত সেবা, সকল প্রকার সার, কীটনাশক, যন্ত্রপাতি ইত্যাদিতেও ভ্যাট থাকছে না। ডেইরি, ফাউন্ড্রি, পাটশিল্পের কাজে ব্যবহৃত সকল যন্ত্রপাতিতেও ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। খালি জমি বিক্রয়, হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে পণ্য উৎপাদন পর্যায়েও ভ্যাট থাকছে না। সরকারের ফার্স্ট ট্রেক তালিকাভুক্ত সকল প্রকল্পে সরবরাহ, নির্মাণ, ইন্টারনেট, ইত্যাদি সেবাকেও ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, দেশে উৎপাদিত এলপিজি সিলিন্ডার, ফ্রিজ, টিভি, এসি ও মোটরসাইকেলে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া আছে, তা বলবৎ থাকবে। ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে দেশীয় সফটওয়্যার উৎপাদন ও সরবরাহে।

বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম

স্পন্দন ডেস্ক>
প্রস্তাবিত বাজেটে বেশকিছু পণ্য সেবা আমদানিতে শুল্ক (সিডি), সম্পূরক শুল্ক (এসডি) বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে গুড়া দুধ, মিষ্টি বিস্কুট, পাস্তা, ওয়েফার, পটেটো চিপস, হাত নখ পায়ের প্রসাধন সামগ্রী, সিলিং ফ্যান, দেয়াল ফ্যান, আইসক্রিম, রঙিন টেলিভিশন, টেলিভিশনের পার্টস, সিমকার্ড, আমদানি করা শুটকি মাছ, আপেল, আঙুর, জিরা,এলাচ, লবঙ্গ দারুচিনি, চকলেট, জ্যাম, জেলি, ফলের রস শিশুখাদ্য, বিট লবণ, সিমেন্ট, সালফিউরিক অ্যাসিড, টুথপেস্ট, ডিটারজেন্ট, দিয়াশলাই, মশার কয়েল, অ্যারোসল, চামড়া ও কাপড়ের তৈরি ব্যাগ, স্যুটকেস, শপিং ব্যাগ, হাতব্যাগ, সকল প্রকার পশমি কম্বল, ফেব্রিক্স, আসবাবপত্র, কাঁচের আয়না ও তৈজসপত্র, হীরা, জুয়েলারি, ইমিটেশনের গহনা, শেভিং সামগ্রী, ফ্রুট ড্রিংক, বার্গার স্যান্ডইউট, চিকেন ফ্রাই, হট ডগ, পিৎজা, এনার্জি ড্রিংক, তামাকযুক্ত সিগারেট, বিড়ি, জর্দ্দা, গুল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেইন্টস, সিরামিকের সামগ্রী, এনার্জি সেভিং ল্যাম্প, ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর, স্যানিটারি ওয়্যার, পেপারবোর্ড, ব্লেড, পুরুষ মহিলা ও শিশুদের সকল ধরণের তৈরি পোষাক, অন্তবাস ও সমজাতীয় পণ্য, কার্পেট ও অন্যান্য টেক্সটাইল ফ্লোর আচ্ছাদন, টয়লেট পেপার, টিস্যু পেপার, টাওয়েল বা ন্যাপকিন পেপার, প্লাস্টিকের তৈরি দরজা-জানালা, বাথটাব শাওয়ার বাথ, পিভিসি শীট, সাবান, গ্যাস তেল, জ্বালানি তেল, আংশিক পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, টিউব, পাইপ, প্লাস্টিকের প্লেট ও শীট, প্লাস্টিকের তৈরি বাক্স, ক্রেইট, কেস, ট্র্যাংক।