যশোরের চুড়ামনকাটিতে জমি জোর করে দখল নেয়ার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক >
যশোর সদর উপজলোর চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন শুনানির আগেই একটি পরিবারের জমি দখল চেষ্টা করার অভিযোগ উঠছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে একটি অসাধু চক্র ও তার ক্যাডাররা ওই জমিতে ইট ফেলে তা দখল করতে আসে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে জমি দখলে বাঁধা দেয়ায় ক্যাডাররা ক্ষুব্ধ হয়ে একটি দোকানঘর ভাংচুর করে। এ সময় সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আক্তার নামে এক জবরদখলকারীর ক্যাডাররা পিছু হটে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই জমি থেকে ইট সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় দখল চেষ্টাকারীরা।
চুড়ামনকাটি বাজারের রেলস্টেশন রোডের বাসিন্দা মৃত পাঁচু বিশ্বাসের ছেলে আতিয়ার রহমান বিশ্বাস জানান, চুড়ামনকাটি মৌজার ২৫৪৪ আর এস দাগ নম্বরে ৭শতক জমিতে তাদের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান রয়েছে। যার এস এ খতিয়ান নম্বর- ২২২, ২২৪ ও এসএ দাগ নম্বর ৯৪৭। ওই জমি তারা ৫২ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন কয়েক মাস আগে কাগজ পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ওই ৭ শতক জমি নিজেদের দাবি করেন ছাতিয়ানতলা গ্রামের মৃত খালেক বিশ্বাসের ছেলে আখতারুজ্জামান আখতার গং। এক র্পযায়ে তারা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষকে ম্যানেজ করে জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে। ওই জমির বিরোধ নিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য গত ১৪ মে যশোরের অতিরক্তি জেলা ম্যাজিষ্টেট আদালতে পিটিশন মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন কোতয়ালি থানা পুলিশকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এরপরেও গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্ত্রাসী আখতার গং জোরর্পূবক ওই জমি দখল করতে যায়। সেখানে এক ট্রাক ইটও ফেলে তারা। এসময় তাদের বাঁধা দেয়ায় ওই ক্যাডাররা ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে একটি ক্যাডার ও অন্য ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে আতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে পিকুলের দোকান ঘরটি ভাংচুর করে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তজেনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আক্তারের ক্যাডাররা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে অবৈধ দখলদাররা ওই জমি থেকে ইট সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একজন জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে জমি দখল করতে আসার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলেন, আদালতে মামলা থাকা সত্বেও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কীভাবে ওই জমি দখল করতে আসে তা বোধগম্য নয়। অবশ্যই আইনের প্রতি সকলের শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
এ ব্যাপারে কথা হয় চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার সাথে। ওই জমির মালিক আখতার গংয়ের। জমি দখলে বাঁধা দেয়ার খবরে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
কোতয়ালি থানার ওসি আজমল হুদা জানান, চুড়ামনকাটিতে আইন অমান্য করে জমি দখলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অবৈধ দখলকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওই জমি থেকে ইট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। দোকান ভাংচুরের ঘটনায় অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।