বৃষ্টিতে রাজগঞ্জে সবজি ক্ষেতে ক্ষতি

নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী, নেংগুড়াহাট(যশোর)>

একটানা বৃষ্টিতে যশোরের মণিরাপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলে শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বেগুন, পটল, বরবটি, পুইশাক, উচ্ছে, লাউ, শশৃা ও লাল শাকের ক্ষেত। ভেসে গেছে অনেক মাছের ঘের। পানির স্রোতে ঝাঁপা বাওড়ের সংযুক্ত সকল খালে মাছ ধরার ব্যাপক হিড়িক পড়েছে।
বৃষ্টির কারণে রাজগঞ্জের ঝাপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের কামরুলের প্রায় ৬ বিঘা, একই গ্রামের সেলিমের সাড়ে ৫ বিঘা , বর্গা চাষি মধুর ৩ বিঘা ও আবু বক্করের ৪ বিঘা, খালিয়া গ্রামের আতিয়ারের ২ বিঘাসহ এ ইউনিয়নে প্রায় কয়েকশ বিঘা বেগুন ও পটলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।
চাষি কামরুল বলেন, ৬ বিঘা বেগুন চাষ করে আমার যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, সে পরিমাণ টাকা এখনও বিক্রি করতে পারিনি। ফলে এ বছর আমার প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে। একই গ্রামের সেলিম ও মধু একই সুরে কথা বললেন। চালুয়াহাটী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন. বরবটি, পটল, লাউ,পুইশাক,লাল শাক, শশাসহ আরো অনেক প্রকারের শবজি বাগান পানিতে থই থই করছে। ইউনিয়নের সিংহের খাজুরা গ্রামের মসলেম, আহাদ, তাজউদ্দীন, কুদ্দুস ও জিয়ারের সাথে কথা হলে তারা প্রতিনিধিকে জানান, আমরা ২/৩ বিঘা করে বেগুন, পটল ও বরবটি লাগিয়েছি। এ সব সবজি পানির নীচে।
চালুয়াহাটী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হাসান বলেন, আমি কৃষকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি পানিতে বেগুন, পটল, বরবটিসহ অনেক শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তবে বন্ধের দিন থাকায় আমি মাঠে যেতে পারিনি।
ঝাঁপা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পলাশ কুমার বলেন, পানিতে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেগুনের। শুক্রবার হলেও আমি অনেক সবজির ক্ষেত দেখেছি। বেগুন, পটল সহ অনেক সবজি ক্ষেতে পানি থই থই করছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নির্ধারন করা যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার তালুকদার জানান, বৃষ্টিতে শাকসবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমান শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। কারন বন্ধের দিন থাকায় অনেক ইউনিয়নের উপসহকারী কর্মকর্তারা মাঠে যেতে পারেনি। তবে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল তথা রাজগঞ্জ অঞ্চলে সব থেকে বেশি পরিমান শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।