সাম্য ও সম্প্রীতির ইফতার মসজিদে-৫> যশোরের চৌরাস্তা জামে মসজিদে প্রতিদিন ১শ’১০ জনের ইফতার আয়োজন থাকে

মারুফ কবীর>
বরকত ও রহমতের মাস রমজান। এ মাসে নেকি হাসিলের জন্য আল্লাহর হুকুমে মাসজুড়ে রোজা রাখেন সকলে। নিজে রোজা পালনের পাশাপাশি অন্য রোজাদারকে ইফতার করিয়ে বাড়তি ছওয়াবের এন্তেজাম করেন মুমিন মুসলমান। যে কারনে বাসাবাড়ি , ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ইফতারের আয়োজনের সাথে সাথে মসজিদেও ইফতারের ব্যবস্থা করেন অনেকে। রমজান সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। এ শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মেলে মসজিদে মসজিদে। ইফতারের সময় সব শ্রেনীর মুমিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইফতারে সামিল হন।
গতকাল শুক্রবার ছিলো ষষ্ঠ রমজান। ভেদাভেদ ভুলে আল্লাহর হুকুম পালনে বদ্ধ পরিকর রোজাদাররা। যশোর শহর, শহরতলী এমনকি গ্রামের মসজিদেও প্রায় প্রতিদিন মুসাফিরদের জন্য ইফতারির আয়োজন থাকে।
গতকাল সরেজমিনে যশোর চৌরাস্তা জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ১শ’ জন ইফতার করছেন। এমনকি স্থানীয় যুবক ও মসজিদ কমিটির অনেকে সকলের সাথে ইফতারে সামিল হয়েছেন। মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের মসজিদটি একেবারে শহরের মধ্যে অবস্থিত। অন্যান্য জেলা থেকে আগত বিভিন্নকাজে আসা লোকজন সহজে এ মসজিদে আসতে পারেন । যে কারণে মসজিদটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। রমজান মাসজুড়ে ইফতারে লোক সমাগম মোটামুটি ভালো হয় । গতকাল প্রায় ১শ’ জন মুসাফির ইফতার করেছেন। তবে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায় শুক্রবার ও রোজা শেষের দিকে। ইফতারের জন্য সাব কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন ১শ’ ১০ জনের ইফতারের আয়োজন করা হয়। তবে মুসাফিরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন কমিটির লোকজন। ইফতারের জন্য প্রতিদিন বাজেট থাকে ১৫শ’ টাকা । মূলত এ অর্থ দান করেন মসজিদ কমিটির লোকজন। তাছাড়া আশপাশের মহল্লার লোকেরা ইফতারের ব্যবস্থা করেন কখনও কখনও। ইফতার বণ্টনের কাজে সাহায্য করেন মহল্লার যুবকেরা। আর সব সময় তদারকি করেন ইফতার কমিটির দায়িত্বরত কর্মকর্তরা। মূলত বেশিরভাগ মুসাফিররা মসজিদে ইফতার করে থাকেন। তাছাড়া আশপাশের অনেকে মসজিদে এসে ইফতার করেন। শহরে কাজে আসা ব্যক্তিরা ও বিশেষ করে বাজারে কাজে আসা লোকজন মসজিদে ইফতার করেন। তাছাড়া কিছু ভিক্ষুকও অংশ নেন।