সাম্য ও সম্প্রীতির ইফতার মসজিদে-৬> যশোর রেলগেট জামে মসজিদে ইফতারির আয়োজন করা হয় মানুষের সহায়তায়

মারুফ কবীর>
মুসলিম সম্প্রদায়ের রমজান মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সাম্যবাদ ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। নিজেকে পরিশুদ্ধ করতেও সর্বাপেক্ষা উত্তম এ মাস।
সারাদিন রোজা রেখে সূর্যাস্তের পর ইফতার এনে দেয় প্রশান্তি। বাড়তি সোয়াবের আশায় নিজের ইফতারের পর অন্যকে ইফতার করার ব্যবস্থা করেন কেউ কেউ। কাজের ব্যস্ততার জন্য অনেক সময় বাড়িতে পৌঁছানোর আগে ইফতারের সময় হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদে ইফতার করেন অনেকে। কর্মব্যস্ত এসব মানুষের জন্য যশোর শহরের ও শহরতলীর প্রায় প্রতিটি মসজিদে ইফতারের আয়োজন থাকে। মসজিদ কমিটির আয়োজনে ও মসজিদ এলাকার মানুষের সহায়তায় এসকল মসজিদে ইফতারের আয়োজন হয়।
গতকাল শনিবার ছিলো সপ্তম রমজান। সরেজমিনে শহরের মুজিব সড়ক রেলগেট জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায় ৯০ জন ইফতার করছেন। মসজিদের মোয়াজ্জিন মিজানুর রহমান বলেন, এ মসজিদটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। যশোরের পুরাতন ও সুপরিচিত মসজিদের মধ্যে অন্যতম এটি। এ মসজিদের ইফতার আয়োজন হয় সম্পূর্ন সহায়তার উপর। মসজিদ কমিটির লোকেরাও ইফতার আয়োজনে সামিল হন। শুকনা ইফতার সামগ্রী শহরের লোকেরা দান করেন। এরই মধ্যে হোটেল হাসান ইন্টারন্যশনালের কর্তৃপক্ষ চিড়া ও গুড় দিয়েছেন। যশোর কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ খেজুর দিয়েছেন। আপাতত প্রায় ১৫ রমজান পর্যন্ত শুকনা ইফতার সামগ্রী মজুদ আছে। মোয়াজ্জিন আরো বলেন, প্রতিদিন ইফতার খরচ ধরা হয় ১৫শ’ টাকা । মহল্লার লোকেরা বিশেষ করে ইফতারের আয়োজন করে থাকেন। মসজিদ কমিটির লোক, মোয়াজ্জিন, খাদেম ও এলাকার যুবকরা ইফতার আয়োজনে সহায়তা করেন। সদ্য এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ প্রায় প্রতিদিন মসজিদের ইফতারের আয়োজনে সাহায্য করেন। তিনি বলেন এখন অবসর সময় আছে। যে কারনে মুসাফিরদের ইফতার ব্যবস্থা ও বন্টনের কাজে সাহায্য করি। মানুষ কাজের ব্যস্ততার জন্য বাড়িতে না গিয়েও মসজিদে মনোরম পরিবেশে ইফতার করতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর মানুষ এক কাতারে ইফতার করেন। যাতে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নিদর্শন ফুটে ওঠে।