কালিগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি>
কালিগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের ঝড়ুখামার গ্রামে।
সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝড়ুখামার গ্রামের মৃত গোলাম রব্বানীর ছেলে রুহুল আমিন মোড়ল (৫০)। ইটভাটায় শ্রম দিয়ে ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তার স্ত্রী জাহিদা বেগম (৪০) দিনমজুরের কাজ করেন। তাদের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। মেয়ে নূরজাহানের (২২) বিয়ে হয়েছে শ্যামনগরের কাশিমাড়ি গ্রামে। বড় ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী মুকুল (১৮) বোনের কাছেই থাকে। ছোট ছেলে আল মামুন (১২) বাবা-মা’র সাথে থেকে স্থানীয় উভাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। সোমবার গভীর রাতের যে কোন সময় রুহুল আমিন মোড়ল ও জাহিদা বেগম দম্পতির মৃত্যু হয়। বাড়ির পাশ্ববর্তী ছোট জামরুল গাছের একটি ডালে গামছার সাহায্যে জাহিদা বেগম এবং স্ত্রীর ওড়নার সাহায্যে রুহুল আমিন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে এমন খবরের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মীর্জা সালাহ্উদ্দীন ও থানার অফিসার ইনচার্জ লস্কর জায়াদুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ মাটিতে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। নিহত রুহুল আমিনের ভাবী রোকেয়া বেগম (৫৫) মাটিতে হাটুগেড়ে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের দু’জনকে মাটিতে নামিয়ে নেন। ওই দু’জন বেঁচে আছে ভেবে তাদের নামিয়ে নিয়েছেন বলে পুলিশকে জানান রোকেয়া বেগম।
নিহতের ছোট ছেলে আল মামুন জানান, রাতে তারাবি নামাজ পড়ে খাবার খেয়ে ঘরের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে সে। তারা পিতা-মাতা বারান্দায় একটি চৌকিতে ঘুমায়। শেষ রাতে সেহেরির সময় ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে ডাকে। ডাকে সাড়া না দেয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে মামুন। সকালে লোকজনের ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙার পর সে তার মা-বাবার মৃতদেহ দেখতে পায়। পিতা-মাতার সাথে কারও কোন দ্বন্দ্ব সংঘাত ছিল না বলে জানায় সে। তবে ছোট একটি গাছে যেভাবে স্বামী-স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তা কখনই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে মনে করছেন তারা। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য স্বজন ও প্রতিবেশীরা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লস্কর জায়াদুল হক জানান, খবর পেয়ে মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান
রিয়াজের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি>
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। নির্যাতিত ব্যক্তি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্ধকাটি গ্রামের মৃত নুরু মোড়লের ছেলে মজনুর রহমানের (৪৫) সাথে প্রতিবেশী মৃত সৈয়দ আলী সরদারের ছেলে নূর মোহাম্মদ সরদারের (৫২) জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। একাধিকবার মাপ জরিপ করে বিরোধীয় ওই জমির একটি তাল গাছের বিষয়ে নূর মোহাম্মদের মালিকানা নিশ্চিত হয়। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীনের পোষা লাঠিয়াল বাহিনীর সহযোগিতায় গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে জোরপূর্বক তালগাছটি কেটে নেয় মজনুর রহমান। ভূক্তভোগী নূর মোহাম্মদ সরদার বিষয়টি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীনের নিকট জানালে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। এর প্রেক্ষিতে নূর মোহাম্মদ সরদার ওই দিনই মজনুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। থানার উপ-পরিদর্শক রাজিব কুমার রায় সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দেয়ার পর রোববার মামলা রেকর্ড হয়। বিষয়টি জানতে পেরে নূর মোহাম্মদের উপর ক্ষেপে যান চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীন। রোববার রাতে নূর মোহাম্মদ সরদার তারাবি পড়ার উদ্দেশ্যে বন্ধকাটি মোড়ল বাড়ি মসজিদে গিয়ে ওজু করে প্রবেশের সাথে সাথে চেয়ারম্যানের আলোচিত ক্যাডার বাহিনীর অস্ত্রধারী সদস্যরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। শেখ রিয়াজ উদ্দীন নূর মোহাম্মদ সরদারকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ঘরে আটক করে বেধড়ক মারপিট করে এবং নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়। খবর পেয়ে নূর মোহাম্মদের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৪২) চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে স্বামীকে নির্যাতন থেকে রেহাই দিতে কাকুতি মিনতি জানায়। কিন্তু চেয়ারম্যান এতে কর্ণপাত না করায় তিনি স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের নিকট থেকে থানার মোবাইল নম্বর নিয়ে অফিসার ইনচার্জ লস্কর জায়াদুল হকের নিকট স্বামীকে অপহরণ ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তাকে রক্ষার জন্য অনুরোধ করেন। থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঘরে আটক অবস্থায় থাকা নূর মোহাম্মদ সরদারকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনায় নির্যাতিত নূর মোহাম্মদের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন বাদী হয়ে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে রাতেই ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীনকে প্রধান আসামি করে মোট ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিত নূর মোহাম্মদ সরদার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোমবার সাতক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে বিজ্ঞ বিচারকের নিকট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লস্কর জায়াদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখানো, নির্যাতন করা, অবৈধ ভাবে জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এলাকার লোকজন তাকে নব্য এরশাদ শিকদার হিসেবে অভিহিত করে। দীর্ঘদিন যাবত একটি লাঠিয়াল বাহিনী তৈরী করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বাড়িতে প্রতিপক্ষের লোকজনকে ধরে এনে টর্চার সেলে নির্যাতন চালাচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। রোববার রাতের ঘটনার খবর পেয়ে তার বাড়ি থেকে নূর মোহাম্মদ সরদারকে যে অবস্থায় উদ্ধার করেছি তাতে জনগণের অভিযোগ যে সত্য তা প্রমাণিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সেটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।