সাম্য ও সম্প্রীতির ইফতার মসজিদে-১৩> যশোর রেলরোডের মসজিদে আকসায় ইফতার আয়োজনে ১০ সদস্যের উপকমিটি

মারুফ কবীর>
সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয় রমজান। অন্যান্য মাসের চেয়ে উত্তম মাস এটি। মাসব্যাপি রোজা রাখা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ কারা হয়েছে। সংযম সাধনার মধ্যে দিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে মাসব্যাপি রোজা রাখে মুসলিম নর-নারী। বাসাবাড়ি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পাশাপাশি যশোর শহর ও শহরতলীর প্রায় প্রতিটি মসজিদে ইফতারের আয়োজন থাকে। মসজিদ কমিটির আয়োজনে আশেপাশেরসহ বিভিন্ন সক্ষম মানুষের সহায়তায় ব্যবস্থা হয় এসব ইফতারের।
গতকাল শনিবার ছিলো ১৪ রমজান। এদিন সরেজমিনে শহরের রেলরোডস্থ মসজিদে আকসায় গিয়ে দেখা যায় ১শ’ জনের অধিক রোজাদার ও মুসাফির ইফতার করছেন। সাথে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। মসজিদের ইমাম মাওলানা ইমদাদুল্লাহ বলেন, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ মসজিদটি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে প্রতি বছর রমজানে এক মাসব্যাপি ইফতারের আয়োজন করা হয় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে। এবছরও ইফতারের জন্য ওহিদুল হাসান জনুকে আহবায়ক করে ১০ সদস্যের ইফতার উপ-কমিটি করা হয়েছে। কমিটির লোকজন সবসময় ইফতারের তদারকি করেন। মসজিদ কমিটির তহবিল থেকে ইফতার খরচ করা হয়। যাতে প্রতিদিন বাজেট থাকে ১৫শ’ টাকা। প্রতিদিন ১২০ জনের ইফতারির প্লেট করা হয়। লোকের পরিমান বেড়ে গেলে প্লেট ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়। আমাদের মসজিদে ইফতার করেন আশপাশের বাজারের দোকানের কর্মচারী, হকার , শাড়ি কাপড় বিক্রেতা, ভ্যান-রিকশা চালক ও মহল্লার রোজাদাররা। কাজের ব্যস্ততার জন্য অনেক সময় বাড়িতে পৌঁছানোর আগে ইফতারের সময় হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে এসকল মুসাফির মসজিদে ইফতার সেরে নেন। তাছাড়া লোকমুখে প্রচার হয়ে যায় যে এ মসজিদে ইফতারের ব্যবস্থা আছে। যে কারণে মুসাফিরসহ ভাসমান অনেক রোজাদার মানুষ মসজিদে এক কাতারে বসে ইফতার করেন। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও সুনামের সাথে ইফতারের আয়োজন করা হয় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে। তাছাড়া মহল্লা ও অন্যান্য লোকেরা ইফতার খরচ দেন বা ব্যবস্থা করেন। সেক্ষেত্রে কমিটির লোকেদের সাথে আলোচনা করে আয়োজন করা হয় ইফতারের। স্থানীয় মুসল্লী আব্দুস সালাম বলেন, এ মসজিদে সুন্দর ও সৌহার্দ্য পরিবেশে ইফতারের আয়োজন করা হয়। বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও ইফতারে সামিল হয়।