২০ মামলার আসামি ঝিকরগাছার সেই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী রাজুর গোপনে আদালতে আত্মসমর্পন

নিজস্ব প্রতিবেদক>
২০ মামলার আসামি যশোরে ঝিকরগাছার সেই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী রাজু সরদার (২৬) গোপনে যশোরের আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। পুলিশ তার আত্মসমর্পনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পাঁচদিন পর। গত ৫ জুন গোপনে আইনজীবীর মাধ্যমে রাজু সরদার আত্মসমর্পন করে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কুখ্যাত এই সন্ত্রাসীর হাত থেকে রক্ষা পায়নি কেউ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য ; সকলেই তার আক্রমণের শিকার হয়েছে। একটি গ্র“পের ছত্রছায়ায় থেকে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়িয়েছে রাজু। অপ্রতিরোধ্য রাজু যা খুশি তাই করেছে ঝিকরগাছায়। এক সময় পুলিশি তৎপরতায় অবস্থা বেগতিক দেখে মালয়েশিয়ার পাড়ি জমায় সে। গত ইউপি নির্বাচনের (২০১৬ সালের ৭ মে) আগে রাজুকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রভাবও খাটায় সে। যে কারণে অনেক যোগ্যপ্রার্থী জয় থেকে বঞ্চিত হন।
ওই এলাকার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের এক নেতার হাত ধরে সন্ত্রাসের জগতে প্রবেশ করে কৃষ্ণনগরের মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে রাজু সরদার। প্রথমে নেশাজাতীয় দ্রব্য; এরপর অস্ত্র হাতে নেয়া শুরু করে। তাকে মদদ দেন স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা। চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা, হুমকি, ছিনতাই, ডাকাতির চেষ্টা, মারপিট, দাঙ্গা হাঙ্গামাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে রাজু।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সময় নৌকা প্রতীকের বিপরীতে তাকে ব্যবহার করা হয়। সে সময় সাবেক পিপি আব্দুল কাদের আজাদের বাড়িতে আগুন, পৌর মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামালের বাড়িতে হামলা, আওয়ামী লীগ নেতা রমজান শরীফ বাদশার অফিসে হামলা, নৌকা প্রতীকের অফিসে ফিল্মি স্টাইলে হামলা করে ভাংচুর চালায় রাজু ও তার সহযোগীরা। এরও আগে তারই বন্ধু রায়হানকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মাজাহারুল ইসলাম প্রিন্সের উপরও হামলা চালায় সে।
উপজেলার পরিষদের নির্বাচনের সময় যশোরের শার্শা-১ আসানের এমপি আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন ঝিকরগাছা থেকে শার্শা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঝিকরগাছা স্বর্ণপট্টি মোড়ে পৌঁছালে রাজুর নেতৃত্বে কালু, স্বপন, শিপন, লিপন তার গাড়িতে হামলা করে। তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। কিন্তু চালক তড়িৎ পদক্ষেপে গাড়ি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কিন্তু সে যাত্রায় শেখ আফিল উদ্দিন রক্ষা পান।
একটি সূত্র জানিয়েছে, বেনাপোলের এক জনপ্রতিধির আত্মীয়তার সুবাদে রাজু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে শেখ অফিলের ওপর হামলা চালায় বলে সে সময় প্রচার হয়।
সর্বশেষ গত গত ২৪ জানুয়ারি যশোর শহরের ধর্মতলা থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে তিন শিশুকে অপহরণের চেষ্টা করে রাজু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ওই তিন শিশু হলো ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর এলাকার ইলিয়াছ হোসেনের ছেলে যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছাবিদ ওয়াসির, নার্সারির ছাত্র তাওছিব আল জারিব এবং ইলিয়াসের ছোট ভাই ইলতুৎমিশের মেয়ে ওই স্কুলে প্লে গ্রুপের ছাত্রী আরিশাহ। এই ঘটনায় কোতয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছিল।
সূত্রটি জানিয়েছে, ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঝিকরগাছার শিমুলিয়ার শাহিন সরদার নামে এক দালাল মালয়েশিয়ায় নিয়ে যায় রাজুকে। গত ইউপি নির্বাচনের পর ফিরে এসে সে আর ফিরে যায়নি। ঝিকরগাছায় বিভিন্ন প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় থাকে সে।
এই বিষয়ে কথা হয় ঝিকরগাছা থানার ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিমের সাথে। তিনি বলেছেন, রাজু সপ্তাহ খানেক আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে ২০টি মামলা আছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এই মামলাগুলোর মধ্যে কোন মামলা কোন অবস্থায় আছে তা পরে বলা যাবে। আর কোন মামলায় রাজু আত্মসমর্পন করেছে তা রোববার জানতে পারবো। তাকে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি-না জানতে চাইলে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মামলা ছাড়া কোন আসামিকে রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ নেই। তবে তার সম্পর্কে আরো বেশি খোঁজ খবর নেয়া হবে বলে ওসি জানিয়েছেন।