সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ> মণিরামপুরে ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের বাড়িতে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর মণিরামপুরের ঝাঁপা বাওড়ের বন্দোবস্ত নিয়ে বিরোধে মৎসজীবীদের উপর হামলা করেছে স্থানীয় সুব্রত ও তার ভাই বিপ্লব বিশ্বাস। বাওড় বন্দোবস্ত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে আদালতে মামলা করায় তারা তাদের বাড়িতে হামলা করে মারপিট করেছে। সংবাদ সম্মেলন করতে আসার সময় ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা রাস্তায় হামলার শিকার হয়েছে সুব্রত বাহিনীর হাতে। মঙ্গলবার প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে রনি কুমার বিশ্বাস বলেন, গত ৬ বছর ঝাঁপা বাওড় ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিল। এবার বাওড় বন্দোবস্তের মেয়াদ শেষ হলে জেলা প্রশাসন দরপত্র আহবান করে। বাওড় বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমিতি দরপত্র জমা দেয়। জেলা প্রশাসন গোপনে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমিতিকে বাওড় ইজারা দিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা জানতে পেরে আদালতের শরনাপন্ন হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সুব্রত ও তার ভাই বিপ্লব বিশ্বস। তারা আদালত থেকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে সমিতির সদস্যদের। গত ৮ জুন সুব্রত ও তার লোকজন তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। ৯ জুন কোমলপুর ও রামপুর গ্রামের অর্ধশত জেলে বাড়িতে হামলা করে সুব্রত ও তার লোকজন। পুলিশ খবর পেয়ে গ্রামে যেয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করে। হামলার শিকার জেলে পাড়ার অনেকে ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পলিয়ে বেড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সুব্রত ও তার লোকজন জেলে পাড়ার লোকজনদের বাড়িঘরে যেতে দিচ্ছেনা। সকালে গ্রাম থেকে যশোর সংবাদ সম্মেলন করতে আসার সময় সুব্রত ও তার ভাই বিপ্লবের লোকজন বেশ কয়েক জায়গায় তাদের গাড়ি থামিয়ে বাধা দেয়। সর্বশেষ সুব্রত ও তার লোকজন শহরের জিলা স্কুলের সামনে গাড়ি থামিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সার্কিট হাউজের পাশের রাস্তায় নিয়ে তাদের মারপিট করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। অবিলম্বে সুব্রত ও তার ভাই বিপ্লবের লোকজদের আটক না করলে তাদের দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হবে। হামলাকারী সন্ত্রাসী সুব্রত ও তার ভাই বিপ্লবকে দ্রুত আটকের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমিতির আহবায়ক জগন্নাথ বিশ্বাস, রাম কুমার বিশ্বাস, রতন কুমার বিশ্বাস, শ্রীপদ বিশ্বাস, সন্তোস কুমার, কার্তিক বিশ্বাস, কনিকা রাণী, পূর্ণীমা বিশ্বাস, জুথিকা বিশ্বাস প্রমুখ।