সংসদে যশোরের আলোচিত জুয়া ও পরিবহণে টোল > আদায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিআকর্ষণ কাজী নাবিল আহমেদ এমপি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক>
জাতীয় সংসদে যশোরের পালবাড়ী মোড়ের আলোচিত জুয়া ও শহরের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে পরিবহণ থেকে টোল আদায়কে অবৈধ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিআকর্ষণ করেন যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। এ দুইটি বিষয়কে তিনি যশোরের দুঃখ হিসেবে উল্লেখ করেন সংসদে।
গতকাল জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, যশোর শহরের পালবাড়ী মোড়ের একটি কমিউনিটি সেন্টারে একাধিক জুয়ার কোট বসিয়ে এবং অবাধে মাদক বিক্রির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে যারা ধ্ব্ংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাওয়ার ”েষ্টা করছে তাদের এবং তাদের পৃষ্টপোষকদের আইনের আওতায় আনা এখন খুবই জরুরি। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে নিষেধ করলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে টোল ঘর বসিয়ে বিভিন্ন পরিবহণের কাছ থেকে একটি গোষ্ঠী চাঁদা আদায় অব্যাহত রেখেছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেটের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে যশোর প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সুদীর্ঘকাল ধরেই অবহেলিত যশোরবাসীর প্রাণের দাবি যশোরকে বিভাগ ঘোষণা করা। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার ব্যবস্থা নেয়া হোক। শেখ হাসিনা আইটি পার্ক, মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস, ভৈরব নদ খনন এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত কাজের অচিরেই উদ্বোধন হবে এই আশা নিয়ে যশোরবাসী প্রধানমন্ত্রীর জন্যে অধির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার কতিপয় সিদ্ধান্ত চরম আশা ও আনন্দ দিয়েছে। এর মধ্যে ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ভৈরব নদ খননের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ, রাজধানীর সাথে মাওয়ার পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাজিরা-ভাঙ্গা-নড়াইল-যশোর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন এবং দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপেলের আধুনিকায়নের কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কাজী নাবিল আহমেদ আরো বলেন, যশোর এমএম কলেজের ২টি হোস্টেল,সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনসহ ৪১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। উপশহর এলাকায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহৎ আকারের ৪টি ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ১০ হাজার নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হয়েছে। ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন এবং একাধিকবার আন্তজার্তিক ফুটবলন্তুর্নামেন্টের সফল আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় আমার নির্বাচনী এলাকায় ১ হাজার কোটি টাকার উপর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চলছে উন্নয়ন মহাযজ্ঞ । তিনি বলেন, ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা সফ্টওয়ার টেকনলজি পার্ক, ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^ বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন ও ছাত্রবাস, ছাত্রীনিবাস, ল্যাব, শত কোটি টাকা ব্যয়ে মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস বিশেষ করে ক্যাম্পাসে কোটি টাকা ব্যয়ে যাতায়াতের জন্যে পাকা রাস্তা তৈরি, ছাত্র ছাত্রীদের জন্যে হোস্টেল নির্মান ও সীমানা প্রাচীর তৈরি, একশ কোটি টাকা ব্যয়ে বিমান বন্দরের আধুনিকায়নসহ ৪৫ টি ও বেশি নতুন রাস্তা নির্মান ও সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। আরো ৩১ টি রাস্তার উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে।