আইসিটি আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তার ও মামলার প্রতিবাদ

নিউজ ডেস্ক>

আইসিটি আইনে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতিকে গ্রেপ্তার ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ করেছেন সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা।

এছাড়া একই আইনে সাতক্ষীরার দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও প্রতিবাদ করেন তারা।

বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলার সাংবাদিকদের এক বিবৃতির কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্য প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) ৫৭ ধারায় বারবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে এটি মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়।

‘হবিগঞ্জ সমাচার’-এর সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিককে পত্রিকা অফিসে কর্মরত অবস্থায় গ্রেপ্তার দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার মুখে রীতিমতো ‘চপেটাঘাত’ বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

গত ৮ জুন দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচারে কয়েকটি অনলাইন পত্রিকার বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের ৮০ জন এমপি মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যাতে হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ আব্দুল মজিদ খানের নামও ছিল।

এর প্রেক্ষিতে ওইদিনই এমপি আব্দুল মজিদ খানের ভাতিজা ও পুকুড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আফরোজ মিয়া বাদী হয়ে ওই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম মোস্তাফা রফিক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রাসেল চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নীরঞ্জন সাহা নীরুর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় সোমবার ভোর রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে, মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে মঙ্গলবার আইসিটি আইনে একটি মামলা করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক গোলাম মুজতবা ধ্রুবর বিরুদ্ধে।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাটি কালাকানুন বলে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন মহল। বাংলাদেশের এই আইনের সমালোচনা চলছে বিদেশেও।

৫৭ ধারায় বলা হয়েছে- ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা জরিমানা।

৫৭ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, হাই কোর্টের এমন রুলও আসে। সমালোচনার মুখে আইনের ধারাটি বাতিলের আশ্বাস দিয়ে আসছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা।

বিবৃতিতে আইসিটি আইনকে ‘কালো আইন’ বলে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম ও অসীম বরণ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা ও গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তারা অবিলম্বে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার গোলাম মোস্তফার মুক্তি দাবি করেন।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহ-সভাপতি কালিদাস কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, অর্থ-সম্পাদক ফারুক মাহবুবুর রহমান, সাহিত্য সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আহসানুর রহমান রাজীব, নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম খোকন, এম ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, মোশাররফ হোসেন, এবিএম মোস্তাফিজুর রহমান ও অসীম বরণ চক্রবর্তী।