যশোরে ডিবির অভিযানে ট্রাকসহ আটক ৪: ৭৪০ বস্তা সার ও ফেনসিডিল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কালোবাজারের মাধ্যমে পাচারের সময় যশোরের ডিবি পুলিশ ৩৭টন ওজনের ৭৪০ বস্তা সরকারি সার (পটাশ)সহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে। এসময় সার পাচারের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে। একই সাথে অপর এক অভিযানে ২শ’ বোতল ফেনসিডিলসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
ডিবি পুলিশের ওসি ইমাউল হক বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
সারসহ আটকরা হলো ঝিকরগাছার বোধখানা গ্রামের মৃত তাহাজ্জাত আলীর ছেলে ইমামুল হোসেন (১৮) এবং যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে সগীর হোসেন (৪২) এবং শহরের বকচর চৌধুরী পাড়ার আবদার আলীর ভাড়াটিয়া আবুল কালাম (৩৬)। আটক তিনজনই ট্রাকের চালক ও হেলপার।
ডিবি পুলিশের ওসি ইমাউল হক জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ১০টার দিকে গোপন সূত্রে জানতে পারেন, অভয়নগরের নওয়াপাড়া থেকে মেসার্স জাহিদ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ৭৪০ বস্তা (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) সার নিয়ে একটি ট্রাক (যশোর-ট-১১-৪০২৯) দিনাজপুরের ফুলবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে। সার বোঝাই ওই ট্রাক ফরিদপুরের টেপাখেলা নামক স্থানে যাওয়ার কথা। সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারের কাছে পৌঁছালে ট্রাকটি থামানোর জন্য সিগন্যাল দিলে সেটি নিয়ে চালক পালানোর চেষ্টা করে। পরে ট্রাক আটক করে তল্লাশি চলিয়ে ওই পটাশ সার উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় মোট ৫ জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান। বাকি দুইজন হলেন অভয়নগরের জাহিদ ট্রান্সর্পোটের জাহিদ এবং দিনাজপুরের ফুলবাড়ি এলাকার জাহিদ।
ওসি ইমাউল হক আরো জানিয়েছেন, সারগুলো উচ্চমূল্যে অন্য স্থানে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টিই ছিল তাদের লক্ষ্য।
এ দিকে অন্য এক অভিযানে ডিবি পুলিশ ২শ’ বোতল ফেনসিডিলসহ মিজানুর রহমান (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। মিজানুর সাতক্ষীরার সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের মৃত শহর আলীর ছেলে।
ইমাউল হক জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৮টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার ইছাপুর গ্রাম থেকে একটি মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্টো-ড-১৪-৫৮১৪) আটক করা হয়। ওই ট্রাকে মিজানুরসহ ৪জন ছিল। তারা পুলিশ দেখে পালিয়ে যায়। পরে ট্রাকটি জব্দ করে ২শ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
পলাতক অপর তিন আসামি হলো ইছাপুর গ্রামের মৃত সলেমানের ছেলে আব্দুর রহমান, আলী হোসেনের ছেলে মশিয়ার রহমান এবং কিতাব আলীর ছেলে বকুল হোসেন। তারা ওই ফেনসিডিল ঢাকায় পাচারের চেষ্টা করছিল। এই ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।