লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারের আগুনে নিহত ১৭

নিউজ ডেস্ক>যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ২৪ তলা একটি ভবনে লাগা আগুনে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে এবং সংখ্যাটি আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যাওয়া লন্ডনের ২৪ তলা গ্রিনফেল আবাসিক টাওয়ার। রয়টার্সস্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতে বা বুধবার শুরুর পর কোনো এক সময় গ্রিনফেল টাওয়ার নামে ওই ভবনটিতে আগুন লেগে মূহুর্তের মধ্যে পুরো ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

রাত ১২টা ৫৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে পশ্চিম লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার ওয়েস্ট ইস্টেটের লাটিমার রোডের ভবনটির সামনে উপস্থিত হয় দমকল বাহিনীর ২০০ জন কর্মী ও ৪০টি ফায়ার ইঞ্জিন। এসেই তারা জ্বলন্ত ভবনটি থেকে ৬৫ জনকে উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সুউচ্চ ওই টাওয়ারটিতে অনেকে আটকা পড়ে যায়, এদের মধ্যে কেউ কেউ জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে।

বিবিসি জানিয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় ভবনটিতে ‘কয়েকশত’ লোক ছিল বলে বোঝা গেছে এবং তাদের অধিকাংশই ঘুমিয়ে ছিল।

আবাসিক ওই টাওয়ারটিতে ১২০টির মতো ফ্লাট ছিল। ঘটনার একদিন পরও আগুন লাগার কারণ বের করা যায়নি।

বিবিসির প্রতিনিধি সারাহ কোরকার জানিয়েছেন, ২৪ ঘন্টা পরও ভবনটি থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল, তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার সারারাত ধরে কাজ করে গেছেন দমকল কর্মীরা।

তারা একটি উঁচু ক্রেন ব্যবহার করে ‘ফ্লোরে ফ্লোরে’ যাচ্ছেন আর আলোর ব্যবস্থা করছেন বলে জানিয়েছেন সারাহ।

অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, তারা লন্ডনের ছয়টি হাসপাতালে ৬৮ জন আহতকে ভর্তি করেছে, তাদের মধ্যে ১৮ জন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে আছেন। এছাড়া আহত আরো ১০ জন নিজেরাই হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়েছেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। এদের মধ্যে ১২ বছরের বালিকা জেসিকা উরবানো রামিরেজ, ৬৬ বছর বয়সী সাবেক লরি চালক টনি ডিসন এবং নিরাপত্তা রক্ষী মো টুকু অন্যতম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজদের ছবি পোস্ট করে তাদের খোঁজ পেলে জানানোর জন্য আবেদন করছে স্বজনরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জ্বলন্ত ভবনটির উপরের ফ্ল্যাটগুলোতে আলোর ঝলক লক্ষ্য করেছেন তারা, সেগুলো মোবাইল ফোন কিংবা টর্চের আলো হতে পারে।

উপরের ফ্ল্যাটগুলোতে আটকে পড়া লোকজন জানালার কাছে এসে সাহায্য চাইছিল। কারো কারো সঙ্গে শিশুও ছিল। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার লোকদের মধ্যে একজন উপর থেকে ছুঁড়ে দেওয়া একটি শিশুকে লুফে নিয়ে রক্ষা করে।

এক সংবাদ সম্মেলনে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি বলেছেন, “দুঃখের সঙ্গে নিশ্চিত করছি, ১৭ জন মারা গেছেন বলে এ পর্যন্ত জানতে পেরেছি আমরা। তবে দুঃখজনভাবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমাদের ধারণা।”

লন্ডন দমকলের সহকারী কমিশনার স্টিভ অ্যাপ্টার বলেছেন, “পৌঁছানো কঠিন এমন কয়েকটি জায়গায় এখনও ছোট ছোট আগুনের পকেট রয়েছে গেছে, তবে প্রায় পুরো ভবনটিতেই তল্লাশি সম্পন্ন হয়েছে।”

ভবনটি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সেটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে নেই বলে জানিয়েছে লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড।