পাকিস্তান পাতানো ম্যাচ খেলে ফাইনালে!

ক্রীড়া ডেস্ক>
ইতিহাসে প্রথম বারের মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। রবিবার প্রথম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ের আশায় চিরশত্র“ ভারতের মুখোমুখি হবে সরফরাজ আহমেদের দল। তার আগে দীর্ঘদিন পর পাওয়া ক্রিকেট সাফল্যের আনন্দে ভাসছে পুরো পাকিস্তান। কিন্তু সরফরাজ আহমেদের দলের এই সাফল্যে কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে দিলেন পাকিস্তানেরই সাবেক ক্রিকেটার এবং প্রধান নির্বাচক আমির সোহেল। ৫০ বছর বয়সী পাকিস্তানের সাবেক এই ওপেনার সরাসরি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান ফাইনালে উঠেছে পাতানো ম্যাচের সুবিধা নিয়ে! নিজেদের সামর্থ, দক্ষতা দিয়ে নয়!
বাংলাদেশ সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ায় এখন সবার দৃষ্টি পাকিস্তানের দিকে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে একের পর এক বিস্ময় দেখিয়ে ফাইনালে চলে গেছে পাকিস্তান। আগামী রবিবার ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নামবে তারা। তবে এমন গৌরবময় মুহূর্তেও কালিমা লেগে গেল পাকিস্তানের গায়ে। সাবেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আমির সোহেলের দাবি, পাতানো ম্যাচের সুবিধা নিয়েই এত দূর এসেছে পাকিস্তান!
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির তলানির দল হিসেবে এসেছিল পাকিস্তান। র‌্যাঙ্কিংয়ের অষ্টম দলটিই দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ফেবারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চলে গেছে ফাইনালে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে তো রীতিমতো হেসেখেলে হারিয়েছে তারা। আর গ্র“পপর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচে যেভাবে সরফরাজ আহমেদরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সেটাই নজর কেড়েছে সবার। কিন্তু পাকিস্তানি এক টিভি চ্যানেলের সাফল্য নিয়ে আমির সোহেলের মতামত জানতে চাইলেই বোমা ফুটল। এ জয়ে গৌরবের কিছু নেই জানিয়ে বলেছেন, সরফরাজকে কারও বলা উচিত, তোমরা মহৎ কিছু করেছ ভেব না। বাইরের কেউ তোমাদের এ জয় পাইয়ে দিয়েছে। সরফরাজের এত খুশি হওয়ার কারণ নেই। আমরা সবাই জানি, পর্দার আড়ালে কী হয়! কে আসলে তাদের এ ম্যাচ জিতিয়েছে, সেটা বিস্তারিত বলতে চাই না। যদি কেউ জিজ্ঞেসও করে বলব সমর্থকদের দোয়ায় আর আল¬াহর ইচ্ছায় ম্যাচগুলো জিতেছে। যারা কারসাজি করছে, তাদের নাম নেব না। মাঠের খেলায় না, বাইরের হস্তক্ষেপে এখানে এসেছ। ছেলেদের এখন মাথা ঠিক রাখা উচিত!
পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে ম্যাচ পাতানোর ঘটনা নিবিড়ভাবে জড়িয়ে। কিন্তু নতুন করে এভাবে প্রকাশ্যে সোহেলের দাবি তোলায় বিস্মিত হয়েছেন সবাই। বিশেষ করে পাতানো ম্যাচ খেলে পাকিস্তানকে জেতানোর অভিযোগ অন্তত আগে কখনো শোনা যায়নি। অনেক দিন পর কোনো আনন্দের উপলক্ষ পাওয়া পাকিস্তানি সমর্থকরাও কিছুটা থমকে গেছেন এমন অভিযোগে। সোহেল অবশ্য আবার অবস্থান পাল্টেছেন। তিনি জানান, সেমিফাইনালের আগে এমন কথা বলেছিলেন। এখন আর কোনো গুরুত্ব নেই এর।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক জয়েই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ তুলে ফেললেন সোহেল। আর তার আগের ইঙ্গিত কোন দলের উদ্দেশ্যে ছিল? বাজে ফিল্ডিং ও ক্যাচ ফসকে ম্যাচ হারা শ্রীলঙ্কা নাকি হঠাৎ করে ব্যাটিং ধসে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকা? সোহেলই ভালো বলতে পারবেন!

তামিমকে চায়
এসেক্স
ক্রীড়া ডেস্ক
২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। লর্ডসে সেঞ্চুরি করে নাম তুলেছিলেন অনার্স বোর্ডে। ঠিক তখন থেকেই বাংলাদেশি এই বা-হাঁতি ওপেনারকে নিয়ে ইংলিশ ক্রিকেট মহলে দারুণ আগ্রহ। তামিমের জন্যও ইংল্যান্ডের মাটি নিশ্চয়ই বিশেষ কিছু। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দারুণ পারফরম্যান্স করে যেমন তামিম সেটির প্রমাণ রেখেছেন আরেকবার। আর সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কারও হাতে নাতেই পেয়েছেন তামিম। ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল এসেক্স দলে পেতে চাচ্ছে বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনারকে। ৭ জুলাই শুরু হবে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি২০ আসর ‘ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব¬াস্ট’। আর এই টুর্নামেন্টের জন্যই এসেক্স দলে পেতে চায় তামিমকে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তামিম। তার ১৪২ বলে ১২৮ রানের ইনিংস মন কেড়েছিল সবার। পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও খেলেন ৯৫ রানের ইনিংস। অবশ্য দুই ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচে অবশ্য ‘০’ রানে ফিরেছিলেন তামিম। তবে সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন ৭০ রানের ইনিংস। ফাইনালের আগ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার তামিমই। জানা গেছে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত ইনিংস দুটির পরই এসেক্সে খেলার প্রস্তাব পান তামিম। বাংলাদেশি ওপেনারকে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রও পাঠিয়েছে এসেক্স। এখন কেবল তামিমের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়ার অপেক্ষা।
এর আগেও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি২০তে খেলেছেন তামিম। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে দারুণ পারফরম্যান্সের পরের বছরই নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে ৫টি টি২০ খেলেছিলেন তামিম।
বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দল /৩
ক্রীড়া ডেস্ক
আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে দুই টেস্টের সিরিজের জন্য শক্তিশালী দল দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ১৩ সদস্যের এই দলে নেই পেসার মিচেল স্টার্ক ও বাঁহাতি স্পিনার স্টিভ ও’কিফ। গত ফেব্র“য়ারি-মার্চে ভারত সফরের সময় পায়ের চোটে কারণে ওই সফরের শেষের দিকে খেলতে পারেননি স্টার্ক। কিছুটা সুস্থ হয়ে বর্তমানে ইংল্যান্ডে চলমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেললেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি এই পেসার। তাই তাকে বাংলাদেশ সফরের দলে রাখা হয়নি।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্র“প পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তাদের ও নিউ জিল্যান্ডকে পিছনে ফেলে ‘এ’ গ্র“প থেকে সেমি-ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড। আর ভারত সফরে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় বাদ পড়েছেন ও’কিফ। নির্বাচকদের যুক্তি, ভারতে পুনে টেস্টে ভালো করলেও সিরিজের বাকি ম্যাচ গুলোতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। তাই তার জায়গায় ২৩ বছর বয়সী বাঁ-হাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগারকে দলে নিয়েছে তারা।
দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আগামী ১৮ আগস্ট ঢাকা পৌঁছাবে স্টিভেন স্মিথরা। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ হবে ২২-২৩ আগস্ট, ফতুল¬ায়। প্রথম টেস্ট ঢাকায় শুরু হবে ২৭ আগস্ট। আর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর। ২০১৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল স্টিভেন স্মিথের দলের। নিরাপত্তা শঙ্কায় শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত করে দেশটি। বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার প্রতিশ্র“তি দেওয়া হলেও আসেনি তারা। একই ঝুঁকির কথা উলে¬খ করে গত বছরের শুরুতে বাংলাদেশে হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও দল পাঠায়নি অস্ট্রেলিয়া। সফলভাবেই শেষ হয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। ২০০৬ সালের পর কোনো টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করেনি অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০১১ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছিল তারা।
অস্ট্রেলিয়া দল : স্টিভ স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যাশটন অ্যাগার, হিল্টন কার্টরাইট, প্যাট কামিন্স, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, জশ হেইজেলউড, উসমান খাওয়াজা, নাথান লায়ন, গে¬ন ম্যাক্সওয়েল, জেমস প্যাটিনসন, ম্যাথিউ রেনশ, ম্যাথু ওয়েড
আজ দেশে ফিরছেন
মাশরাফিরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে শেষ হলো বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা। ক্রিকেট ইতিহাসের সবথেকে বড় ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ দল এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়। গতকাল শুক্রবার বার্মিংহাম থেকে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ দল। আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ দলকে বহনকারী বিমান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির ম্যানেজার রাবীদ ইমাম।
সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাবে মাশরাফিদের জন্য এটি ছিল সফল এক টুর্নামেন্ট। আইসিসির কোনো আসরে শেষ চারে প্রথমবারের মতো খেলল বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে ভারতের দাপটে ফাইনালে টিকেট না পেলেও ক্রিকেটপ্রেমিদের মন জয় করেছে বাংলাদেশ। গ্র“প পর্বে ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।
এদিকে গত ২৭ এপিল রাতে ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ক্যাম্প করতে ঢাকা ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। সাসেক্সে নয়দিনের ক্যাম্প শেষে বাংলাদেশ উড়াল দেয় আয়ারল্যান্ডে। সেখানে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে ২৫ মে ইংল্যান্ডে ফিরে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি পর্বে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলে ১ জুন বাংলাদেশের স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু হয়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ এক পয়েন্ট অর্জন করে। ৯ জুন কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সেমিফাইনালের টিকেট। কিন্তু বিগ সেমিফাইনালে ভারতের সঙ্গে পারেনি মাশরাফি বাহিনী।
‘আমরা ঠিক
পথেই আছি’
ক্রীড়া প্রতিবেদক
কাগজে-কলমে আইসিসি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তবে তৃপ্তির জায়গা খুব বেশি দেখছেন না সাকিব আল হাসান। উন্নতির সুযোগ দেখছেন আরও অনেক। তবে উন্নতিটা যে ধাপে ধাপে হচ্ছে, সেটিও বলছেন। ভারতের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক বললেন, ঠিক পথেই আছে দেশের ক্রিকেট।
সিনিয়র ক্রিকেটাররা এই টুর্নামেন্টে ভালোই করেছে। কিন্তু জুনিয়ররা সেভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। আপনার কি মনে হয়, কেন? সাকিব আল হাসান: সিনিয়র-জুনিয়র বলে তো লাভ নেই। দায়িত্ব সবারই থাকে। দল হিসেবে আমরা কেমন খেলতে পেরেছি, সেটাই আসল। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে আমরা খুব যে ভালো করতে পেরেছি তা নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাত্তা পাইনি, আজকেও। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গেও খুব ভালো খেলিনি। তবে ভালো ব্যাপার ছিল যে সেদিন জিতেছিলাম। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি অবশ্যই, তবে এখান থেকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। যদি এরকম বড় টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে চাই, তাহলে অনেক উন্নতি করত হবে অনেক জায়গায়।
নির্দিষ্ট করে বললে, কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে? সাকিব: সব জায়গায় উন্নতি করতে হবে। বড় দলগুলি যেমন ২৭০ রান হলেও অনেক সময় প্রতিপক্ষকে আটকে দেয়, নিষ্প্রাণ উইকেট হলেও। আমরা সেটা পারি না, উইকেট থেকে সহায়তা লাগে। আবার আমরা যে ব্যাটিং করেও কোনো দলকে উড়িয়ে দেব, সেটাও খুব বেশি পারি না। নিখাদ ব্যাটিং উইকেটেও। আজকেও যেমন ৩৩০ রান করা উচিত ছিল। আমাদের ৬০-৭০ রানের ঘাটতি ছিল।
বড় বড় দলগুলি এই ভুল করে না। আজ ভারতের ব্যাটসম্যানদের দেখুন, কোনো সুযোগই দেয়নি। এভাবেই যেদিন যে ভালো খেলবে, তার দায়িত্ব নিতে হবে। তো এরকম অনেক কিছুই আমরা এখনও করতে শিখিনি বা করতে পারি না। আরও উন্নতি করতে হবে। ঘাটতিটা কি মানসিকতায় নাকি স্কিলে?
সাকিব: মানসিক শক্তির ঘাটতি একটা ব্যাপার। মানসিকতার উন্নতিও আসলে এমনিতে হবে না। খেলতে খেলতে বা জিততে জিততে হবে। এই যে দেখুন, গত দুই বছরে আমরা অনেক ম্যাচ জিতেছি বলে বিশ্বাস করেছি যে আমরা এখানে সেমিতে উঠতে পারব। কিন্তু সেমি-ফাইনালে আমাদের সেই বিশ্বাসটা ছিল কিনা, সেটি জানার বিষয়। বিশ্বাস ছিল কিনা যে, আমরা এরপর যেতে পারব।
তো ধাপে ধাপে একটা একটা করে এগোচ্ছি। আমার মনে হয়, আমরা সঠিক পথেই আছি। গ্রেফ ছোট ছোট কিছু ব্যাপার উন্নতি করতে থাকলেই আমরা হয়ত আরও ভালো জায়গায় যেতে পারব। এই দলটার মাঝে আর এমন কি ঘাটতি দেখেছেন, যা ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলতে এলে দলের মাঝে দেখতে চান না?
সাকিব: ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বলা ঠিক না। বিশেষ করে ভালো দিন যদি না যায়, তাহলে ম্যাচ শেষেই আসবে নেতিবাচক ভাবনা। এখন আসলে তাই যদি কিছু বলতে চাই, বলাটা ভুল হবে। এটা সময় নিয়ে সবাই মিলে আলাপ করে বোঝার বিষয়। কীভাবে কাজ করলে এই জায়গাটায় উন্নতি করতে পারি, কীভাবে আরেকটা ধাপ এগোতে পারি, এটা সবাই মিলে বসে আলেচনা করে পরিকল্পনা নিয়ে সেটা ধরে এগোতে হবে।
টুর্নামেন্টে নিজের পারফরম্যান্সে কতটা সন্তুষ্ট?
সাকিব: সব মিলিয়ে বললে, বোলিংটা আরও ভালো করলে ভালো হতো। ব্যাটিংও আরও ভালো করলে ভালো হতো। ভালোর তো আসলে শেষ নেই। একদিক থেকে খুশি যে একটি ম্যাচ জিতেছি, সেটিতে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছি।
বোলিং নিয়ে কি একটু চিন্তিত?
সাকিব: আমার মনে হয় মোটামুটি ঠিক অবস্থায়ই আছি। উইকেট পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপারও। অনেক সময় পাব, অনেক সময় পাব না। এসব নিয়ে আসলে খুব বেশি ভাবার কিছু নেই। আমার মনে হয় ঠিক আছে। মনে হচ্ছে না খুব ভালো বোলিং করছি বা বাজে অবস্থায় আছি ওরকম কিছু না। এমনকি ব্যাটিংয়েও। মনে হচ্ছে, সব ঠিকই আছি।