বৃষ্টির বাগড়াতেও যশোরে জমজমাট ঈদবাজার

মারুফ কবীর>
যশোরে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঈদবাজার। গতকাল শুক্রবার ছিলো ২০ রমজান। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ঈদ বাজারে ছিলো প্রচন্ড ভিড়। এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা পেয়ে গেছেন বেতন-বোনাস। যার প্রভাব পড়েছে কেনাকাটায়। গতকাল দুপুরের পরে বৃষ্টি হওয়ায় কেনাকাটায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। তারপরও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদ পোশাক কিনছেন সকলে। শহরের বিপণি বিতান গুলো ঘুরে দেখা গেছে, এইচএমএম আলী রোড, কাপুড়িয়াপট্টি, জেস টাওয়ার, সিটি প¬াজা, শহরের মুজিব সড়ক, কালেক্টরেট মার্কেটসহ বিপণিবিতান গুলো জমে উঠেছে। এবার ঈদে তরুণীদের নতুন পোশাকের মধ্যে এসেছে বাহুবলী-২ ও গাউন ফ্রগ । ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নামে নামকরণ করা হয়েছে বাচ্চাদের পোশাকের। এবারের ঈদে সাড়া ফেলেছে বাহুবলী-২ , বস-২ ও রাখি-বন্ধন নামের ড্রেস। ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে সুতির পাঞ্জাবী। শহরের নামি-দামি টেইলার্সগুলো পোশাকের অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। দর্জি বাড়িতেও চলছে পুরোদমে ঈদের কাজ। কারিগরদের শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততা চরমে। যথাসময় পোশাকের ডেলিভারি দেয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন টেইলার্স মালিকরা। সব মিলিয়ে সরগরম যশোরের ঈদবাজার। ছিট কাপড়ের দোকানে তেমন ভিড় না থাকলেও শাড়ি, কসমেটিকস ,জুতা স্যান্ডেল ও পার্লারে চলছে ব্যস্ততা। পোশাকের সাথে মিলিয়ে কসমেটিকস জুতা স্যান্ডেল কিনতে ব্যস্ত সব বয়সী ক্রেতা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের শুরুতে ব্যবসা মন্দা ছিল। রোজা শুরুর আগ মূহুর্তে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শেষ হওয়ায় পর ক্রেতারা বাজারমুখো হয়েছিলো। তবে শহরের প্রান কেন্দ্র দড়াটানায় কিছুদিন আগে শুরু হওয়া পুলিশ নারী কল্যান ঈদ আনন্দ মেলা ব্যবসায়ে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। তাছাড়া ভিসা সহজ হওয়ায় সচ্ছল লোকেরা ঈদের শপিং করছেন ভারতে গিয়ে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এদিকে, দেরিতে হলেও ঈদ বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। যশোর কাপুড়িয়াপট্টির গোবিন্দ স্টোরের মালিক অশোক কুমার সাহা বলেন, এখন ব্যবসা ভালোর দিকে যাচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে আশানুরূপ। শাড়ি বিক্রেতা পাড় আঁচলের প্রোপাইটর মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তা বলেন, রোজার শেষ দশকে শাড়ি বিক্রি জমে ওঠে। গেল ২/৩ দিন বিক্রি হচ্ছে মোটামুটি ভালো। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে সামনে আরও ভাল হবে। এস ট্রেডের বিক্রয় কর্মী বাবু বলেন, বাজারের ভিড় জানান দিচ্ছে বিক্রি ভাল। শিশু পোশাকের দোকান ডরেমনের প্রোপাইটর নাজমুল ইসলাম রিপন বলেন, ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশী । পোশাক মজুদ থাকলেও বিক্রি তুলনামুলক কম। কারন হিসেবে তিনি বলেন ভারতীয় ভিসা সহজ হওয়ায় বেশিরভাগ লোক কোলকাতায় গিয়ে শপিং করছেন। তার প্রভাব পড়েছে যশোরের বাজারে। বেবি ফ্যাশনের প্রোপাইটর তারিকুজ্জামান বলেন , আবহাওয়া ভালো থাকলে সামনে ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করছি। কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের খান গার্মেন্টসের বিক্রয় কর্মী জুম্মন বলেন, আমাদের মার্কেটের অধিকাংশ কাস্টমার মধ্যবিত্ত ও গ্রামের । তারা শহরে আসতে শুরু করেছেন। এ কারণে বিক্রি বেড়েছে। ছিট কাপড়ের দোকান জিকো কর্পোরেশনের ম্যানেজার আলী হোসেন জানান, শহরের বেশিরভাগ টেইলার্সগুলো অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। তৈরি পোশাক যারা বানান তারা ২০ রোজার মধ্যে ছিট কাপড় কেনেন। বর্তমানে ছিট কাপড়ের দোকানে ভিড় কম।
ঈদে ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে থাকে পাঞ্জাবি। এবারো তার ব্যতয় হয়নি। নানা ডিজাইনের, নানা ফ্যাশনের পাঞ্জাবি ক্রয় করছেন ক্রেতারা। এবারের ঈদে সুতির কাপড়ের লং, সেমি লং, ন্যারো ও শর্ট পাঞ্জাবির কদর বেশি। এমএম কলেজের ছাত্র ইমন হোসেন বলেন, ঈদে পাঞ্জাবি ছাড়া কিছু কল্পনা করা যায় না। গরমে এবার হালকা রঙের সুতি পাঞ্জাবি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। পাঞ্জাবি বেশ রুচিশীল পোশাক। সুতির হালকা কাজের পাঞ্জাবি স্মার্টনেস বাড়ায়। আবার গরমে পাঞ্জাবি আরামদায়কও বটে।
যশোর এইচএমএম রোডের দেখা ফ্যাশনের প্রোপাইটর মান্না দে লিটু জানান, বাজারে ভিড় বেড়েছে। এ কারণে সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকছে। রাতে শহরের ক্রেতারা কেনাকাটা করেন। কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের হ্যাভেন ড্রেসের প্রোপাইটর নজরুল ইসলাম সুমন বলেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতার চাপ বেড়ে যায়। আর ৮/৯ দিন পরে ঈদ-উল-ফিতর। শেষ দিকে বিক্রি বেড়েছে। মুজিব সড়কের রঙ ফ্যাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন শেখ বলেন, এখন শাড়ির বিক্রি বেশি হচ্ছে। তাছাড়া তরুণরা পাঞ্জাবী ও জিন্স প্যান্ট কিনছেন। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। যশোর বড় বাজারের লিবার্টি সু’র বিক্রয়কর্মী পিকে সরকার বলেন, চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে জুতা-স্যান্ডেল বিক্রি। অন্যান্য পোশাক কেনা শেষের দিকে। পোশাকের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে জুতা স্যান্ডেলের বিকিকিনি। কাস্টমারের চাহিদা মেটাতে রীতিমত নাজেহাল আমরা। ফেন্সি মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, তরুণীরা পোশাকের সাথে মিল করে কসমেটিক্স কিনছেন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত । ঈদের আগের দিন মধ্য রাত পর্যন্ত চলবে কসমেটিকস বিক্রি।
তরুণীদের পোশাকের মধ্যে বাহুবলী-২ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ১২ হাজার , গাউন ফ্রগ ২৫শ’ থেকে ৭ হাজার, সুতি থ্রি পিচ ৬শ’ থেকে সাড়ে ৩ হাজার, সিনথেটিক থ্রি পিচ ১৫শ’ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায়। সুতির পাঞ্জাবী পাওয়া যাচ্ছে ৯শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায় এবং সিল্ক পাঞ্জাবী মিলবে ২ থেকে ৫ হাজারে। শিশু পোশাক বস-২ মূল্য ১৪শ’ থেকে ২২শ’ টাকা, বাহুবলী-২ ২ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, লং গাউন ১ থেকে সাড়ে ৪ হাজার , শর্ট গাউন ১৫শ’ থেকে ৩ হাজার, আকাশ ভরা তারা ৩ থেকে ৫ হাজার, চারুকারু ১৫শ’ থেকে ৩ হাজার, সারেগামাপা ১৫শ’ থেকে ২ হাজার, কুতকুতি মাইয়া ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার, রাখি-বন্ধন ২ থেকে ৪ হাজার, ফ্রগ ১ থেকে ৮ হাজার টাকা। ছেলে শিশু পোশাকের মধ্যে বাহুবলী-২ ৬শ’ থেকে ১৪ শ’, প্যান্ট ৬শ’ থেকে ২২শ’, বাবা সেট ১হাজার থেকে ২২শ’, শেরওয়ানী ১৮শ’ থেকে ২৮শ’ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।