ভাইকে শায়েস্তা করতে মেয়েকে দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধে ভাইকে শায়েস্তা করতে খোদ নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনেছিলেন এক ব্যক্তি। এজন্য মিথ্যা নাটক করে মেয়েকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালেও ভর্তি করেছিলেন সাইফুর রহমান শফি নামে ওই ব্যক্তি। কিন্তু ‘ধর্ষণ অভিযোগ’ মিথ্যা বুঝতে পেরে পুলিশ তাকে থানা হাজতে আটকে রাখে। ফলে নিজের বিপদ বুঝতে পেরে সাইফুর রহমান শফি স্বীকার করে নেন অভিযোগটি ছিল মিথ্যা। তার মেয়েও পুলিশকে লিখিত দিয়েছে তার পিতামাতার কথামত সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো। তার উপর নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয়।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ায় সাইফুর রহমান শফি এবং তার ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম শরীফের একই দাগের প্রায় ৪ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। জমিতে বাড়িও রয়েছে। সম্প্রতি শফির স্ত্রীর আগের পক্ষের এক মেয়ে তার বিরুদ্ধে (শফির) পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এই অভিযোগে স্বাক্ষী করা হয়েছে শরিফুল ইসলাম শরীফকে। পুলিশের ধারনা, শরীফ ভাইয়ের পালিত মেয়েকে ব্যবহার করে শফির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। আর শফিও জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে পালিত মেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। ফলে শফি তার স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে নিজের অষ্টম শ্রেণী স্কুল পড়–য়া মেয়েকে গত সোমবার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে কোতয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, শরীফ তাদের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে ঢুকে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। পুলিশ এই অভিযোগ পেয়ে বুঝতে পারে শফির অভিযোগ মিথ্যা। ফলে পুলিশ তাকে ধরে থানা হাজতে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর অবস্থা বেগতিক দেখে স্ত্রীকে থানায় খবর দিয়ে এনে তাকে বিষয়টি জানান শফি। এরপর শফির স্ত্রী এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে তদবির চালিয়ে পুলিশের কাছে স্বীকার করে নেন তার অভিযোগটি ছিলো মিথ্যা। মেয়েকেও কোন ছাড়পত্র ছাড়াই বিকেলে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসেন। পরে শফির স্ত্রী পুলিশের কাছে লিখিতভাবে স্বীকার করেন তাদের অভিযোগ মিথ্যা। অপরদিকে শফির মেয়েও পুলিশকে লিখিতভাবে জানায়, তার পিতামাতার পরামর্শে একাজ সে করেছিলো। কোতয়ালি থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল বাশার মিয়া জানান, তারা স্বীকার করেছে জমি নিয়ে বিরোধে ভাইকে শায়েস্তা করতে এ কাজ করেছে। তবে তারা ভুল স্বীকার করার পর শফিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।