ঢাকায় গলায় কাপড় প্যাঁচানো এএসপির লাশ উদ্ধার

 বিডিনিউজ>
রাজধানীর রূপনগর এলাকা থেকে হাইওয়ে পুলিশের সহকারী সুপার মিজানুর রহমান তালুকদারের গলায় কাপড় প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মিজানুর রহমানরূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম বলেন, “তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা।”
পঞ্চাশোর্ধ্ব মিজানুর রহমান হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের সাভার সার্কেলের দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে রূপনগর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বিরুলিয়া ব্রিজের কাছে ঢাকা বোট ক্লাবের বিপরীত দিকের রাস্তার পাশে তার লাশ পাওয়া যায়।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার গাজীপুরের টঙ্গিতে হাইওয়ে পুলিশের সুপারের কার্যালয়ে একটি বৈঠক ছিল। সেই সভা শেষ করে রাতে উত্তরার বাসায় ফেরেন মিজানুর রহমান তালুকদার।
বুধবার ভোরে সেহেরি খাওয়ার পর ৫টার দিকে সাধারণ পোশাকেই বাসা থেকে কর্মস্থল সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা হন সহকারী সুপার। সে সময় তার সঙ্গে কোনো দেহরক্ষী বা সরকারি গাড়ি ছিল না বলে আতিকুল ইসলাম জানান।
“সকালের দিকে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।”
হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে সড়কে যানবাহন চলাচল নির্বিঘœ করতে আশুলিয়ায় ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সেখানে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা। সেসব তদারকি করতেই ভোরবেলায় বাসা থেকে বের হন মিজানুর রহমান।
রূপনগর থানার ওসি জানান, এএসপির বাসা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব পায়ে হেঁটে প্রায় ৪০ মিনিটের পথ; আর মোটরসাইকেলে গেলে ১৫/২০ মিনিট লাগে। তিনি যে বাসা থেকে গাড়ি ছাড়াই বের হয়েছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
“ধারণা করা হচ্ছে, ভোর ৬টার আগেই ঘটনা ঘটেছে। তবে তাকে সেখনেই হত্যা করা হয়েছে, না কি অন্য কোথাও হত্যার পর লাশ ওখানে ফেলে রাখা হয়েছে- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
এই পুলিশ কর্মকর্তা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন কি না, এই হত্যাকান্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না- সেসব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে বলে জানান ওসি।
মিজানুর রহমানের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল হলেও তিনি বড় হয়েছেন উত্তরা এলাকায়।